,

‘দয়া করে মাস্টারদা সূর্যসেনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিন’

4-11

জুনায়েদ কৌশিক চৌধুরী>>

সময়টা ১৯৪৯ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে শামিল হলেন এক অকুতোভয় ছাত্রনেতা। ফলস্বরুপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রোষানলে পড়ে সেই ছাত্রনেতা হলেন বহিষ্কৃত, ছাত্রত্ব হয়ে গেলো বাতিল।

জরিমানা প্রদানপূর্বক মুচলেকা দিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সূযোগ দিয়েছিলো ঢাবি প্রশাসন কিন্তু প্রবল ব্যাক্তিত্ববোধের অধিকারী সেই ছাত্রনেতা প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়ে মাথা উচু করে সেইদিন বেরিয়ে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

সেই ছাত্রনেতা আর কেউ নন, আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

২০১৫ সালে ঢাবি সিন্ডিকেটের এক সভায় ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুর উপর জারিকৃত সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সভা শেষে উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন স্যার মিডিয়াকে জানান, এর মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক দায়মুক্তি হলো, গ্লানিমুক্ত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সময়টা ১৯১৫। চট্টগ্রাম কলেজ বিএ অনার্স ৩য় বর্ষের সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নিয়োজিত এক তরুণ। এই তরুণের বিপ্লবী কর্মকান্ড সম্পর্কে অবহিত ছিলো ইংরেজ প্রিন্সিপাল। সাদা চামড়ার ঐ প্রিন্সিপাল ছিলো সূযোগের অপেক্ষায়, পরীক্ষার হলে ঘটে গেলো অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনা। প্রিন্সিপালের কোপানলে পড়ে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হলেন সেই বিপ্লবী তরুণ।



এই বিপ্লবী আর কেউ নন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক মাস্টারদা সূর্যসেন।

মাস্টারদার মহাপ্রয়াণ দিবসে চট্টগ্রাম কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত নিবেদন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেখানো পথ ধরে অনুগ্রহপূর্বক আপনারাও মাস্টারদা সূর্যসেনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিন। হয়তো বিষয়টি প্রতীকী, হারানো সময় তাতে ফিরে পাওয়া যাবেনা, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলেও মাস্টারদার সম্মানের নুন্যতম কোনো হেরফের হবেনা;
মাস্টারদা মহান,তিনি মহানই থাকবেন কিন্তু সম্ভব হবে ঐতিহাসিক দায়মুক্তির, সম্ভব হবে গ্লানিমোচনের।

চট্টগ্রাম কলেজ কর্তৃপক্ষ, বিষয়টি ভেবে দেখবেন কি?

জুনায়েদ কৌশিক চৌধুরী

জুনায়েদ কৌশিক চৌধুরী

‘ফেসবুক কর্ণার এ প্রকাশিত লেখা প্রয়োজন২৪ এর নিজস্ব প্রতিবেদন নয়, ফেসবুক ব্যাবহার কারীদের মতামত।’

Share Button