,

মুস্তাফিজ নয়, বাংলাদেশের সাথে হায়দ্রাবাদের সম্পর্কটা অন্য জায়গায়!

hydrabad

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফাইনাল। মুখোমুখি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজ খেলেন বলেই বড় একটা বাংলাদেশি সমর্থক গোষ্ঠীর সমর্থন পাবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

তবে, আরও একটা কারণে চাইলে বাংলাদেশের সমর্থকরা এই হায়দ্রাবাদ দলকে সমর্থন করতে পারেন। হায়দ্রাবাদের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্পর্কটা অনেকদিনের পুরনো – সেই ৭০ কিংবা ৮০’র দশক থেকে।

সেসময় বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে মাথা ঘামানোর মত মানুষের সংখ্যা খুব কম ছিল ক্রিকেট বিশ্বে। সে সময়টাতেই হায়দ্রাবাদের দল ডেকান হায়দ্রাবাদ ব্লুজ কমপক্ষে বাংলাদেশ সফর করেছিল।

মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আজীবন সদস্য রইসুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে হয় ওই দলের দুটি বাংলাদেশ সফর। স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘সে সময় আমাদের অবকাঠামো বলতে কিছু ছিল না। আমরা তখন শুধু সম্মানজনক ড্র’য়ের জন্য খেলতাম। ওদের দলে ভারতের বেশ কয়েকজন টেস্ট আর রঞ্জি ট্রফি খেলা ক্রিকেটার ছিলেন। বরাবরই ওদের মোকাবেলা করতে যেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়তেন আমাদের ক্রিকেটাররা।’

যে চারটা সফরের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়, তার প্রথমটা হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। সেবার অধিনায়ক ছিলেন অজিত ওয়াদেকার। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে অধিনায়ক হয়ে এসেছিলেন ভগত চন্দ্রশেখর। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে গুন্ডাপ্প বিশ্বনাথ ও ১৯৯০ সালে সৈয়দ কিরমানির অধীনে বাংলাদেশে খেলতে এসেছিল দলটি। মূলত, তখন সবগুলো ম্যাচই হত তিন দিনের। আর স্বাগতিকরা প্রায়শই পায়ের নিচের মাটি খুঁজে পেতে ব্যর্থ হত।

(নিচের বিজ্ঞাপনটিতে ক্লিক করুন)



বর্তমানে বিসিবির পরিচালকদের একজন সাজ্জাদুল আলম ববি সেসময়ও ক্রিকেটের প্রশাসনিক কাজে জড়িত ছিলেন। সেই সফরগুলোর জন্য তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করলেন বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সাবেক সহ-সভাপতি রঙ্গ রেড্ডি, ভারতের ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপ জয়ী দলের ম্যানেজার আর. পি. মান সিং, ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৭ অবধি ৩৫ টি টেস্ট ও সাত ওয়ানডে খেলা হায়দ্রাবাদের ক্রিকেটার শিবলাল যাদব, ও সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার ভেংকট শ্রীধরকে।

তাদের সাহায্য ছাড়া এই সিরিজগুলো আয়োজন করা অসম্ভব ছিল বলে মনে করেন তিনি। বললেন, ‘তারা আমাদের ক্রিকেটের উন্নয়নে বড় একটা প্রভাব রেখে গেছেন। তখন না পারতে কেউ বাংলাদেশ সফর করতে চাইতো না। আমরা খুব কম সুযোগ পেতাম। ওদের সাথে খেলা আমাদের দারুণ ভাবে সাহায্য করেছিল।’

শুধু বাংলাদেশে আসাই নয়, হায়দ্রাবাদে সেই ১৯৩০৩১ মৌসুম থেকে হয়ে আসা মঈন-উদ-দৌলা গোল্ড কাপে খেলতেও তারা আমন্ত্রন জানিয়েছিল বাংলাদেশের ক্লাবগুলোকে। সাজ্জাদুল আলম বলেন, ‘আমি মনে করতে পারি, অন্তত দুটো বাংলাদেশি ক্লাব – আজাদ বয়েজ ও আবাহনী লিমিটেড মঈন-উদ-দৌলা গোল্ড কাপ খেলতে গিয়েছিল। ওই সময় ক্লাবগুলো শুধু যাওয়া-আসার খরচটা বহন করতো; আয়োজকরাই থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করে দিতেন। আমাদের খেলোয়াড়দের তখন বিদেশ যাওয়ার এত সুযোগ ছিল না; তাই ওটা খেলোয়াড়দের জন্য ছিল অন্যরকম ব্যাপার। আজাদ মঈন-উদ-দৌলা গোল্ড কাপে খেলতে যাওয়াই আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম কোনো ক্লাবের বিদেশ ভ্রমণ।’

১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট কনট্রোল বোর্ড লাল দল (বিসিসিবি) পাঁচ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছিল সৈয়দ কিরমানির ডেকান ব্লুজদের। রমন লাম্বার অপরাজিত ৯৭ ও কিরমানির ৫৩ রানে ভর করে ছয় উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা করেছিল ১৯১ রান। জবাবে মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর অপরাজিত ৭০ ও এনামুল হক মনির ৪২ রানের সুবাদে জিতে যায় বাংলাদেশ।

সেবারই প্রথম বাংলাদেশি কোনো দলের বিপক্ষে হেরেছিল ডেকান হায়দ্রাবাদ ব্লুজ!

পোস্টটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে প্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

Share Button