,

‘সুলতান মনসুর এক সুদূর প্রসারি ষড়যন্ত্রের শিকার’

sultan-monsur-সুলতান-মনসুর

ফরহাদ আহমেদ ফাহাদ >>

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কালজয়ী জাতীয় সাংবাদিক, কলামিষ্ট, যিনি বাংলাদেশি নয়, বাঙালী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করেন গাঢ় ভাবে।(যে জাতীয়তাবাদ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষের আমরা যারা অন্তরের গভীরে শক্ত ভাবে লালন করি) তিনি কোন এক অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় বলেছিলেন, বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং জনক কন্যা জননেত্রী,দু’জন দুই জমানার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ পেয়েছিল দুইজন মেধাবী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিক্ষিত মেলিটেন্ট। তাদের একজন হলেন(বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে) ঊনসত্তরের মহানায়ক জননেতা তোফায়েল আহমদ(সাবেক ডাকসুর ভিপি এবং সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি) আর আরেকজন হলেন(জননেত্রীর নেতৃত্বে)আশির দশকে সারা বাংলা কাপানো ছাত্রনেতা এবং পঁচাত্তরের পনেরোই আগষ্টের জাতীয় হত্যাকাণ্ডের(জাতির জনকের সপরিবারে হত্যা) পর প্রতিরোধ বা প্রতিশোধ যোদ্ধের অন্যতম অগ্র সেনানী জননেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ(সাবেক ডাকসুর ভিপি এবং সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি)।

আজকের আমার এই লেখায় উপরোক্ত ঐ প্রসঙ্গ টানার কারণ হলো, আমার ধারাবাহিক লিখা “একজন সুলতান মনসুর” এর অনেক জায়গায় আমি উল্লেখ করেছি,জননেতা সুলতান মনসুর এক সুদূর প্রসারি ষড়যন্ত্রের শিকার।তাতে ঐ নির্দিষ্ট কিছু ভদ্রলোক জানতে চেয়েছেন,আমার সুদূর প্রসারি ষড়যন্ত্র বলার উদ্দেশ্য কি?
হ্যা, আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই।আমার উদ্দেশ্য অত্যন্ত পরিষ্কার।জননেতা সুলতান মনসুর সুদূর প্রসারি ষড়যন্ত্রের শিকার।তা আজ কিছুটা হলেও ঐ নির্দিষ্ট কিছু ভদ্রলোকদের সবিনয়ে পেশ করবো।।

ঊনসত্তরের মহানায়ক জননেতা তোফায়েল আহমদ বীরত্ব গাঁথা ভুমিকার জন্য অর্জন করেন বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে মন্ত্রী পদ মর্যাদার পদ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব।কিন্তু জননেতা সুলতান মনসুর ! জীবনে যিনি বাংলার ইতিহাসে তিন তিনটি যোদ্ধে(একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধে,পঁচাত্তরের পনেরোই আগষ্টের পর প্রতিরোধ বা প্রতিশোধ যোদ্ধে এবং সৈরাচার বিরোধি আন্দোলনে বিজয়ী নেতৃত্ব)অংশ গ্রহণ করেছেন,তিনি কি পেয়েছেন দেশরত্ন জননেত্রীর কাছ থেকে? একরাশ বঞ্চনা,অবহেলা নয় কি?



একাত্তর এবং পঁচাত্তরের ঘাত প্রতিঘাত,চড়াই উৎরাই পেরিয়ে জননেতা সুলতান মনসুর যখন আশির দশকে ছাত্রলীগের কান্ডারী(সভাপতি)হন।তখন ছাত্রলীগের কেমন দশা ছিল?রুগ্ন,দুর্বল হতাশা গ্রস্ত নয় কি?বলাবাহুল্য ছাত্রলীগ ছিল দুর্বল,অসংগঠিত।এই যখন ছিল ছাত্রলীগের অবস্থা।ঠিক তখনি জননেতা সুলতান মনসুর ছাত্রলীগের দায়িত্ব গ্রহণ করে ছাত্রলীগ কে সু-সংগঠিত করেন,হন ডাকসুর ভিপি।এবং ছাত্রলীগের সু-সংগঠিত শক্তিমত্তা ছড়িয়ে দেন সারা বাংলাদেশে।সর্বোপরি পঁচাত্তরের পরে আওয়ামীলীগের উল্লেখ করার মতো বিজয় আসে জননেতা সুলতান মনসুর ভাইয়ের হাত ধরেই,ডাকসুর ভিপি।এবং নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে ডাকসুর ভবনে উত্তোলন করেন বঙ্গবন্ধুর ছবি। আর সৈরাচার বিরোধি আন্দোলনে উনার ভুমিকা তো উনাকে গনতন্ত্রের অন্যতম রুপকারে পরিণত করে।

জননেতা সুলতান মনসুর ভাইয়ের রাজনৈতীক জীবনে এত অর্জনের পর কি অর্জন করলেন উনার প্রানপ্রিয় সংগঠন আওয়ামীলীগ থেকে?বরং বঞ্চিতই হলেন।বঞ্চিত হলেন একান্নবই এর জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন থেকেও।তাও আবার আওয়ামীলীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে।একান্নবই র জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পার্লামেন্টারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছিল,কোন উপজেলা চেয়ারম্যানকে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন দেবে না।সারা দেশে সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটলেও ব্যতিক্রম ঘটে জননেতা সুলতান মনসুর ভাইয়ের আসনে।ওখানে মনোনয়ন দেয়া হয় এক উপজেলা চেয়ারম্যানকে।কিন্তু দলীয় নেতা কর্মীদের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন।মনোনয়ন পান জননেতা সুলতান মনসুর।
এটা কি ষড়যন্ত্র নয়?

ছিয়ানব্বই জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিজয়ী হয়ে যখন সরকারে আসীন হন।তখন জননেতা সুলতান মনসুর বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।কিন্তু ডাকসুর নির্বাচনে একাধিক বার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল এমনি কেউ মন্ত্রী হলেও, বঞ্চিত হন রাজনীতির প্রত্যেক ধাপে সফল জননেতা সুলতান মনসুর।এমনকি উনাকে সংসদিও কোন কমিটির সভাপতিও করা হয়নি?
এটাকে আপনি ষড়যন্ত্র বলবেন নাতো কি বলবেন?

ছিয়ানব্বই উত্তর সময়ে যখন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।তখন জননেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ হন আওয়ামীলীগের পাঁচ নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক।তাও আবার রংপুর বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত।তখনকার সময়ে রংপুর প্রশাসনিক ভাবে বিভাগ সিকৃতি পায়নি।এমনকি ঐ বিভাগে দায়িত্বরত অবস্থায় পাঁচ মাসের মাথায় উনাকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়।কিন্তু কেন?এমন তো কথা ছিল না।যোগ্যতায় উনার এক নম্বর হওয়ার কথা ছিল।কারণ তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।সাবেক ডাকসুর ভিপি।উনার নেতৃত্বে পঁচাত্তর উত্তর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সু-সংগঠিত হয়।শুধু কি তাই? জননেতা সুলতান মনসুর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক থাকা অবস্থায় পল্টন ময়দানে অথবা আওয়ামীলীগের কোন কেন্দ্রীয় সমাবেশে উনাকে বক্তব্য থেকে বিরত রাখা হতো।কিন্তু কেন? সমাবেশে বক্তব্য ছিল উনার সাংগঠনিক নৈতিক অধিকার।তাহলে বঞ্চিত করা হয়েছে কেন?
এটা কি ষড়যন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে না?

সর্বশেষ দুই হাজার আট এর নির্বাচনে জননেতা সুলতান মনসুর ভাইকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়।যা ছিল দলীয় গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।কারণ উক্ত নির্বাচনে এই আসনে উনি ছিলেন তৃণমূলের সমর্থনে একক প্রার্থী।মৌলভী বাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি,সেক্রেটারি তৃণমূলের একক সমর্থনে জননেতা সুলতান মনসুর ভাইয়ের নাম কেন্দ্রে অভিহিত করেছিলেন।কিন্তু দলের হাইকমান্ডের একক সিদ্ধান্তে দলের গনতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জননেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে মনোনয়ন দেননি।কি কারণে মনোনয়ন দেয়া হলো না,তাও জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি।অবশেষে এটাকে কি বলা যায়?এটাকে ষড়যন্ত্র বললে কি মহা অন্যায় হবে?

পঁচাত্তর উত্তর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে সবচেয়ে জনপ্রিয় জননেতা হচ্ছেন জননেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।আর উনার এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর গাত্রদাহ শুরু হয়।শুরু হয় ষড়যন্ত্র।সুদূর প্রসারি ষড়যন্ত্র।কষতে থাকা হয় বিষাক্ত ষড়যন্ত্রের নির্মম ছক।আর সেই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় আজকে জননেতা সুলতান মনসুর আওয়ামীলীগে অবহেলিত।এমন কি সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

পরিশেষে একটা কথা বলবো,ষড়যন্ত্র করে একজন সুলতান মনসুরকে ধংস করা হয়তো সহজ,কিন্তু সৃষ্টি করা কঠিন।ষড়যন্ত্র করে একজন সুলতান মনসুরকে আওয়ামীলীগ জনসভা থেকে দুরে রাখা যায়,কিন্তু জনবিচ্চিন্ন করা কঠিন।ষড়যন্ত্র করে একজন সুলতান মনসুরের অগ্র পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ট করা যায়,কিন্তু স্থায়ী ভাবে রুদ্ধ করা কঠিন।

আজকের এই লিখনির অবশেষে বিজ্ঞানী নিউটনের এইটা কথা বারবার মনে পড়ে।
আর তা হলো- প্রত্যেকটা আকর্ষণের বিপরীতে বিকর্ষণ বাঞ্ছনীয়।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

ফরহাদ আহমেদ ফাহাদ

ফরহাদ আহমেদ ফাহাদ

মতামতটি প্রয়োজন২৪ ডট কম এর কাছে পাঠিয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মী ফরহাদ আহমেদ ফাহাদ আহমেদ। পোস্টটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে প্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

Share Button