,

সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এখন ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড়

sylhet tour total

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। নিরবতা ভেঙ্গে এখন সেখানে শুধু হৈ-হুল্লুড়। প্রিয়জনকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে যাচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা। ঈদের পর দিন থেকেই বিছানাকান্দি, জাফলং, রাতারগুল, লালাখাল, পাংথুমাই, লোভাছড়া, শ্রীপুরসহ সিলেটের প্রায় সব পর্যটনকেন্দ্রেই ভিড় করেছেন হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসু। ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেলেও পর্যটকদের এই আনোগানা আরো দু’একদিন থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত তিন দিন ধরে সিলেটের সব হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট অতিথিতে পরিপূর্ণ।



আগামী দুইদিন পর্যন্ত সবগুলো কক্ষ বরাদ্দ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের বৃহৎ দুই হাওর টাঙ্গুয়া ও হাকালুকি, দেশের একমাত্র জলারবন রাতারগুল, জাফলং, বিছনাকান্দি, পাংথুমাই, ভোলাগঞ্জ, লালাখাল, লোভাছড়া, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর হ্রদ, সাতছড়ি ও রেমা কালেঙ্গা উদ্যান এবং বিভিন্ন চা বাগানসহ এখানকার পর্যটনকেন্দ্রগুলো দেখতে সবসময় ভিড় করেন পর্যটকরা। ঈদের ছুটিতে বাড়ে পর্যটকদের সংখ্যা। এই ঈদের ছুটিতে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়েই পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। একই অবস্থা সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখালেও। প্রতিদিনই বাড়ছে পর্যটকদের সমাগম।

জল আর বনের মিশেলে দেশের একমাত্র জলারবন‘রাতারগুল’ এখন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণকেন্দ্র। গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত সুন্দরবন খ্যাত এই সোয়াম্প ফরেস্টের নিস্তব্দতা এখন কেড়ে নিয়েছে পর্যটকদের কোলাহলে। নৌকায় চড়ে গহীন জঙ্গলের অজানায় হারিয়ে যাচ্ছেন পর্যটকরা। পাংথুমাইয়ের ঝর্ণা দেখতেও প্রতিদিন পর্যটকদের ভিড় জমেছে। গোয়ানইঘাটের বিছনাকান্দিতেও পর্যটকদের ঢল নেমেছে। বিছানাকান্দির পাথুরে বিছনানায় শুয়ে ঝর্ণার জলে স্থান করতে ঈদের পর থেকেই এ স্থানে ছুটছেন দলে দলে দলে পর্যটক। একই অবস্থা সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরেও। হিজল-করচময় জনশূণ্যহীন হাওরও সরব হয়ে উঠেছে।



সিলেট হোটেল ও গেস্ট হাউস ওনার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি তাহমিন আহমদ জানিয়েছেন, তাদের সংগঠনের অর্ন্তভূক্ত ২১ টি হোটেল রয়েছে। এর বাইরে রয়েছে আরো প্রায় আড়াইশ’ হোটেল। রিসোর্ট ও মোটেল রয়েছে আরো অন্তত ৫টি। গত কয়েকদিন ধরে এসব হোটেল রিসোর্টে কোনো কক্ষ খালি নেই। অতিথিতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। রাতাগুলে বেড়াতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, কাল টাঙ্গুয়া গিয়েছিলাম। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটলে পর্যটকরা এখানে আসতে সহজ হবে। প্রচার বাড়াতে পারলে এখানে পর্যটকদের আগমনও বাড়বে। সিলেটের পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার সিলেটে পর্যটর সমাগম বেশি হয়েছে। কারন বর্ষার রূপ দেখার জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে শ্রেষ্ট স্থান হচ্ছে সিলেট। সিলেট হোটেল এন্ড গেস্ট হাউস ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, সিলেটের সকল হোটেল- রিসোর্টের সবগুলো কক্ষই এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ। আগামী আরো দুই তিন দিন পর্যটকরা থাকবেন। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের সদস্য ডা. জাকারিয়া হোসাইন বলেন, দেশের অনান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর তুলনায় সিলেটের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সিলেটে সর্বাধিক পর্যটক সমাগম ঘটেছে।

খবরটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে প্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

Share Button