,

যাত্রাবাড়ী ও গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

ফাইল ছবিফাইল ছবি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা ও গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন আদালত। সকালে তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও জয়নুল আবেদীন মেজবার মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শুনানি শেষে জামিনের এ অাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশনা অনুসারে বেলা সাড়ে ১১টায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চান খালেদা। এর আগে সকালে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে সোয়া ৯টা ২০ মিনিটের দিকে পুরাতন ঢাকায় অবস্থিত নিম্ন আদালতের উদ্দেশে রওয়ানা হন খালেদা জিয়া। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পৌঁছান তিনি। সে সময় কয়েকশ নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও ঢাকার কমলাপুরের কন্টেইনার টার্মিনালে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে গ্যাটকোকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনকে আসামি করে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। মামলায় গ্যাটকোকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রের কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়।  এ ছাড়া মামলা জরুরি ক্ষমতা বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৭ সালে করা আলাদা একটি রিট আবেদন করা হলে সেটিতেও রুল জারি করেন হাইকোর্ট।



এ মামলায় ২০০৮ সালের ১০ জুলাই খালেদা জিয়া, সাবেক ছয় মন্ত্রীসহ ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় দুদক। এরপর চার্জশিটভুক্ত আসামি খালেদা জিয়াসহ অনেকেই ওই মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর দুদক মামলাটি সচলেও উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল শুরু হয় রুলের শুনানি। এছাড়া গত বছরের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম নামের এক যাত্রী।

এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম নুরুজ্জামান গত বছরের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫/২৫(ঘ) ধারায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। গত ৩০ মার্চ আদালতে হাজির না হওয়ায় খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। মামলায় ৩৮ আসামির মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়াসহ ছয়জন জামিনে রয়েছেন।

অপরদিকে শহিদুল খান, লিটন, পারভেজসহ চারজন কারাগারে রয়েছেন। আর বাকি ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।  গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির উল্লেখ্যযোগ্য আসামিরা হলেন- বিএনপিনেতা যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, খন্দকার মাহবুব হোসেন, চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাবেক ছাত্রনেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি নেতা কাউয়ুম কমিশনার, লতিফ কমিশনার, সালাউদ্দিন আহম্মেদ, নবী উল্লাহ নবী, বাদল কমিশনার।

পোস্টটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে প্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

Share Button