,

মোস্তাফিজ কী ভাবছেন?

Mustafizur-মুস্তাফিজ

ক্রিকেটে মোস্তাফিজের আবির্ভাবটা হয়েছিল অনেকটা ধূমকেতুর মতো। ‘এলাম, খেললাম এবং জয় করলাম’- মোস্তাফিজের অবস্থাটা ছিল ঠিক তেমনই। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও মূলত ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক সিরিজেই আত্মপ্রকাশ ঘটে এই বাঁহাতি পেসারের। ক্রিকেট বিশ্ব খুঁজে পায় নতুন এক রত্ন।

২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে থাকে বাংলাদেশ। শুরুটা হয় পাকিস্তানকে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশের মধ্য দিয়ে। শুরু হয় বাংলাদেশের নতুন এক স্বপ্ন যাত্রা। ওই সিরিজে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অভিষেক হয় মোস্তাফিজুর রহমানের। অভিষেকেই শহীদ আফ্রিদির মতো ব্যাটসম্যানকে আউট করে আলোচনায় আসেন মোস্তাফিজ।



এরপর বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে আসে ভারত। ওয়ানডেতে অভিষেক হয় মোস্তাফিজের। আর বল হাতে জ্বলে ওঠেন বাঁহাতি এই পেসার। শুরুটা করেন রোহিত শর্মাকে দিয়ে। তার দেয়া কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে ভারতের এই ওপেনার ক্যাচ দেন মাশরাফির হাতে। পরের ওভারেই আরেক স্লোয়ার কাটারে রাহানেকে সাজঘরে ফেরান।

তবে এ দুই উইকেট কিছুটা ম্লান হয়ে যায় রায়নাকে বোল্ড করার পর। মোস্তাফিজের অফ কাটারে রায়না বোল্ড হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকেন মোস্তাফিজের দিকে। আর শেষ দিকে জাদেজা ও অশ্বিনকে ফিরিয়ে অভিষেক ম্যাচেই তুলে নেন পাঁচ উইকেট। নির্বাচিত হন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।

এরপর দ্বিতীয় ম্যাচেও তার কাটারে বিধ্বস্ত হয় ভারত। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রোহিত শর্মাকে সাব্বিরের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান। এরপর ধোনিকে স্লোয়ার কাটার দিয়ে বোকা বানিয়ে ফিরিয়ে দেন সাজঘরে। আগের ম্যাচে বোল্ড হয়ে বোকা বনে যাওয়া রায়না এ ম্যাচে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন।

এরপর জাদেজাকে দারুণ এক ইয়র্কারে বোল্ড করেন। শেষ দিকে অক্ষর প্যাটেল ও অশ্বিনকে আউট করে দ্বিতীয় ম্যাচে তুলে নেন ৬ উইকেট। আর শেষ ম্যাচে আবারও রোহিত শর্মা ও সুরেশ রায়নাকে আউট করে তিন ম্যাচের সিরিজে তুলে নেন ১৩ উইকেট। গড়েন বিশ্ব রেকর্ড।

এরপর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ, এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিসহ ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নাম লেখান আইপিএলের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদে। বল হাতে জাদু দেখিয়ে অভিষেক আসরেই ১৭ উইকেট নিয়ে হন আইপিএলের সেরা উদীয়মান তারকা।

এরপরই বাধে বিপত্তি। হানা দেয় ইনজুরি। আর এই ইনজুরি নিয়েই সাসেক্সের হয়ে খেলতে যান ইংলিশ কাউন্টিতে। সেখানে গিয়েই কাঁধের ইনজুরিতে পড়েন তিনি। লন্ডনেই কাঁধের অপারেশন করা হয়। সেই ইনজুরিতে নয় মাসের বিরতি দিয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে আবার ফেরেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। তবে ওই সিরিজে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি এই তারকা। এরপর শ্রীংলঙ্কা এবং আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে কিছুটা ছন্দ ফিরে পান কাটার মাস্টার। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ উইকেট পেয়েছেন এই তারকা।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আসরের অন্যতম ফেভারিট ভারত। সেমিতে প্রতিপক্ষ ভারত হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাকিয়ে আছে মোস্তাফিজের দিকেই।

সেমির ফাইনালের আগে এক সাক্ষাৎকারে মোস্তাফিজ আগের রূপে ফেরার আশা ব্যক্ত করেছেন। ভারতের বিপক্ষে সেমিতে জ্বলে উঠে দেখাবেন তার কাটার ভেলকি। আর তাই তো ভারতের এখন মাথা ব্যথার কারণও মোস্তাফিজ। কারণ শেষ ২০১৫ সালের সিরিজে মোস্তাফিজের কাটারে জ্বলতে হয়েছিল তাদের। তাই আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) যদি মোস্তাফিজ জ্বলে ওঠেন তবে ভারতকে বাঁচাবে কে?

মোস্তাফিজ নিজেই জানালেন জ্বলে ওঠার কথা। তবে স্বীকার করেছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবার সেভাবে দাগ কাটতে পারেননি তিনি। ইংল্যান্ডে পা দেওয়ার পর থেকে অফকাটারে ধার যে কমে গিয়েছে। মোস্তাফিজ বলেন, ‘ঘরের মাঠে আমার অফকাটারগুলো বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। কারণ বাংলাদেশের পিচ, সেখানকার পরিবেশ, ওই ধরনের বল করার পক্ষে উপর্যুক্ত; কিন্তু এখানকার পরিবেশে তেমন কাজ করছে না কাটারগুলো। তবে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে।’

Share Button