,

মাশরাফির মুখে শুনুন নিজের সাথে যুদ্ধ করার কথা

12341433_1005722812824020_7415780496422656014_n

ক্যারিয়ারে চোটের সঙ্গে লড়াই তো আমার অভ্যাসই হয়ে গেছে। তবে এবারের বিপিএলে একেবারেই ভিন্ন একটা অভিজ্ঞতা হলো আমার। একটু অদ্ভুতই লাগত মাঝে মাঝে। মাঠে আছি, অথচ কিছু করছি না! বোলার হয়েও বল করতে পারছি না। আমি তো ব্যাটসম্যানও না। ওখানে আমার তেমন কিছু করার নেই। সুযোগ এলে ব্যাটিং করব, নয়তো বসে থাকব। এভাবে কিছু না করে ম্যাচ পার করে দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমার জন্য খুবই অস্বস্তিকর ছিল।

বোলিং বাদ দিয়ে শুধু অধিনায়কত্ব করার চাপ আরও বেশি মনে হয়েছে আমার কাছে। শুধু নেতৃত্ব দিতে মাঠে আছি মানে তো আমাকে অধিনায়ক হিসেবে ভালো পারফর্ম করতে হবে। দলকে জিতিয়ে আনতে হবে। ভাগ্য ভালো যে, আমরা জিতেও গেছি।

বিপিএলের আগে একটা বছর খুব চাপ গেছে আমার ওপর দিয়ে। মানসিক চাপই বেশি। যত ম্যাচ খেলেছি, সবগুলোতেই তো অধিনায়ক ছিলাম। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্বের সময় ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ থাকে। যতই আমি নির্ভার থাকি না কেন মানসিক চাপ পড়েই। এরপর ডেঙ্গুতে ভুগলাম, আবার জিম্বাবুয়ে সিরিজ। শরীর দুর্বল থাকায় ডেঙ্গু থেকে ফিরেই মাঠে নেমে চোটে পড়ার শঙ্কা ছিল। ডাক্তাররাও সাবধান করে দিয়েছিলেন। বিপিএলের শুরুতে লড়াইটা তাই ছিল আরেক রকম…নিজের সঙ্গে নিজের। কেন জানি আমার মাঠেই নামতে ইচ্ছে করছিল না। মনে হচ্ছিল, খেলাটাকে আমি শারীরিক-মানসিকভাবে আর নিতে পারছি না।



তারপরও ভালোয় ভালোয় চলছিল সবকিছু। টুর্নামেন্টের শুরুতে ফিট ছিলাম। কিন্তু তিন-চার ম্যাচ পরই চোট পেলাম হ্যামস্ট্রিংয়ে। পরিস্থিতিটা কঠিন হয়ে যায় তখন। আমার বোলিং করা বন্ধ হয়ে গেল। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে জিম করতে না পারায়। এসব ক্ষেত্রে যেটা নিয়ম—জিম বা ট্রেনিং করতে গিয়ে যদি কোনো একটা জায়গায় ব্যথা লাগে, তাহলে সেটা করা যাবে না। ব্যথার জায়গায় নতুন করে চাপ বা ব্যথা দেওয়া যাবে না, এই নিয়ম সব ক্রীড়াবিদকেই মানতে হয়। জিম করতে গিয়ে দেখলাম আমার চোটের জায়গায় ব্যথা লাগছে। তখন আর সেটা চালিয়ে যেতে পারলাম না। আসলে জিম করা ছাড়া আমার পক্ষে কোনো কিছুই করা সম্ভব নয়। জিম করতে না-পারা মানে আমার বোলিং করার সম্ভাবনা নেই।
তিন-চারটা ম্যাচে তাই বোলিং বাদ দিলাম। চিকিৎসা নিতে থাকায় ব্যথা একটু কমে আসল। তখন হালকা পুনর্বাসন শুরু করলাম। ভাবলাম এটা করে যদি অন্তত ছোট রানআপে বোলিং করতে পারি। তবে চট্টগ্রামে যে ম্যাচে হঠাৎ বল হাতে নিলাম, সেদিন কিন্তু আমার বোলিং করার কথা ছিল না। কিন্তু ডলার মাহমুদ চোটে পড়ায় বাধ্য হয়েছি প্রস্তুতি ছাড়া বল করতে। সেটার একটা ভালো দিকও অবশ্য আছে। ওই ম্যাচে বল করার পরই আমার আত্মবিশ্বাস বাড়ল। মনে হলো চেষ্টা করলে হয়তো সব ম্যাচেই ২-১ ওভার করে বল করতে পারব।

সে কারণেই শেষের ২-৩টি ম্যাচে বোলিং করা। এটা একেবারেই আমার সিদ্ধান্ত। কোচ সালাউদ্দিন ভাই বা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের মালিক পক্ষ থেকে কোনো চাপ ছিল না। উল্টো সেমিফাইনালে আমাকে বল করতে দেখে কামাল ভাই (ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান উপদেষ্টা আ হ ম মুস্তফা কামাল) টিম ম্যানেজারকে ফোন করে বলেছেন, ‘ওকে বোলিং করতে নিষেধ করো।’ উনি শুধু চেয়েছেন আমি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকি। আর কিছু করা লাগবে না।
আমার চোটাঘাত নিয়ে অনেক যত্নশীল ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ, এ রকম সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু নিজের কাছে মনে হচ্ছিল, আমি যেভাবে বোলিং করছি ওইটুকু করে দিলেও দল অনেক এগিয়ে যাবে। কোচের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম, অন্তত দুটি ওভার করব। যখন দেখলাম, ছোট রানআপে সমস্যা হচ্ছে না, তখন ৪ ওভারও করে ফেলেছি। পুরো রানআপে করলে অবশ্য চোটে পড়ার শঙ্কা ছিল। সে জন্য কোনো ঝুঁকি নেওয়ার চিন্তাও করিনি। এমনকি বল না করলেও নি ক্যাপ পরে মাঠে নেমেছি। অবশ্য হাঁটুর সমস্যা ছিল না বলে টেপিং বা ব্যথানাশক ইনজেকশনের প্রয়োজন হয়নি।

কিন্তু ওই যে অনেক দিন জিম করা হয় না, এখন তাই মাঝে মাঝে হাঁটু ব্যথা করে। খেলি আর না খেলি, স্বাভাবিক হাঁটাচলার জন্যও আমাকে সারা জীবন কিছু ট্রেনিং করে যেতে হবে। আপাতত খেলা নেই। পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে যাব ঘুরতে। তবে অপেক্ষায় আছি জিমে ফেরার। ওটা ছাড়া যে আমি অচল।

সূত্র : প্রথম আলো

পোস্টটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে প্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

Share Button