,

মহাত্মা আহমদ ছফা-র ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন

ahmad safa-আহমদ ছফা

সব্যসাচী ও মানবতাবাদী লেখক, দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী, সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক মহাত্মা আহমদ ছফা-র ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী সাহিত্যবিশারদ সুহৃদ, চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে সম্প্রতি নগরীর একটি অনলাইন পত্রিকার কার্যালয়ে উদযাপিত হয়। কবি ইলিয়াস বাবরের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন কবি ও সংগঠক শহিদুল আলীম, প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাবন্ধিক আবদুর রহিম, আলোচক ছিলেন কবি ও সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন শ্যামল, কবি ও সাংবাদিক শাহিদ হাসান ও সাহিত্যিক আহমেদ মনসুর।

আলোচনায় আরো অংশ নেন আইনজীবী আমির খসরু চৌধুরী, মোঃ রহিম উদ্দিন, নাট্যব্যক্তিত্ব শাহিন চৌধুরী, কবি মোস্তফা হায়দার, ম. জসিম উদ্দিন, সাংবাদিক মির্জা শাওন, আইনজীবী জিকু বড়ুয়া, আইনজীবী ইমরান উদ্দিন, কবি সৈয়দ রাশেদ হায়াত, মোঃ আরিফ উদ্দিন প্রমুখ। আলোচকরা মহাত্মা আহমদ ছফা-র জীবন ও কর্মের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

দেশের চলমান সঙ্কট নিরসনে একজন আহমদ ছফা-র বড়ই প্রয়োজন বলে তাঁরা বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। তিনি যেকোন ব্যাপারে নির্মোহ, প্রথাবিরোধী আর নিরেটভাবে সত্য লিখে প্রকাশ করতেন বলে সুধী সমাজের বেশিরভাগই তাঁর বিরাগভাজন ছিলেন। তাই তাঁর জন্ম কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীতে কোন আড়ম্বর হয় না, উদযাপন করা হয় না, কোন মিডিয়াতে এ নিয়ে কিছুই প্রকাশিত হয় না। আলোচকরা এ নিয়েও আলোচনা করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন।



২০০১ সালের ২৮ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন। আমৃত্যু তিনি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কলাম লেখা অব্যাহত রেখেছিলেন। তাঁর লেখায় বাংলাদেশি জাতিসত্তার পরিচয় নির্ধারণ প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। গল্প, গান, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে ৩০টির অধিক বই রচনা করেছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘সূর্য তুমি সাথী’। ১৯৬৭ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বই হিসেবে মুক্তধারা থেকে প্রকাশিত হয় এটি।

জাগ্রত বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা : রাজনীতির আলোকে, যদ্যপি আমার গুরু, বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা, বাঙালি মুসলমানের মন, শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ, রাজনীতির লেখাসহ বহু প্রবন্ধ বই লিখেছেন। কবিতা বইয়ের মধ্যে জল্লাদ সময়, দুঃখের দিনের দোহা, একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা, লেনিন ঘুমোবে এবার। উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ওংকার, একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন, মরণবিলাস, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী অন্যতম। ২০০২ সালে তাঁকে সাহিত্যে (মরণোত্তর) একুশে পদক দেওয়া হয়। মানবতাবাদী এই লেখক ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

পোস্টটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে প্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

Share Button