,

ভারতীয় সিরিয়ালে শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ঙ্কর রোগ

1326051414

।।আমিনুল ইসলাম।।

এ নিয়ে একমাসের মধ্যে সাতজন পরিচিত অভিভাবকের ফোন। ফোনালাপ শুরুই উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে । কেউ কেউ ভাষাই খুজে পাচ্ছেনা কিভাবে শুরু করবে। ফোনের বিষয় তার সন্তান ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছে আর বেহুশ হয়ে যাচ্ছে যাদের আগে কখনো এরকম হয়নি। আগে কারো কোন শ্বাসকষ্ট বা স্নায়বিক সমস্যা ছিলনা। এদের মধ্যে একজনকে রাত দুটোয় গ্রাম থেকে ঢাকার হাসপাতালে নিয়ে আসতে হয়েছিল। প্রত্যেকে ক্লাশ সিক্স থেকে টেন এ পড়ুয়া ছাত্রী।

মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাবার পর এমনটা হতে দেখেছি। বিয়ে পরবর্তী মানসিক চাপ তাদের অগোচরেই শারীরিক লক্ষনে কনভার্ট হয়ে যেতে পারে যাকে conversion ডিসঅর্ডার বা হিষ্টেরিয়া বলে। কিন্ত আলোচ্য সাতজনের প্রত্যেকেই পিচ্চি,অবিবাহিত । সবার আগে SSC পরীক্ষার্থী যে কিশোরীটির অসুস্হতার বর্ননা শুনেছিলাম, ভেবেছিলাম পরীক্ষার চাপে হয়ত এমনটা হচ্ছে। তারপর যখন খুব অল্পকয়েকদিনের মধ্যে একের পর এক একই রকম অসুস্হতার খবর আসতে থাকে আমি একটু নড়েচড়ে বসি। কোন একটা অভিন্ন কার্যকারন বা etiology আছে হয়তো এর পিছনে। হাসপাতালে নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলি। কারো সাথে ব্যাক্তিগত টানপোড়ন, পরিবারে অশান্তি বা আর্থিক অনটন এসবই অস্বীকার করে তারা।

এদের মধ্যে দুজন জানায় সন্ধারাতে লোডশেডিং হলে তারা ব্যাখ্যাতীত রকমের অস্বস্তি বোধ করে, পরে বিদ্যুৎ আসলেও তা আর যায়না। আমি জিজ্ঞাস করি যদি দিনের বেলা বা মাঝরাতে বিদ্যুৎ যায় তাহলে? তারা বলে তখন সমস্যা হয়না। আরেকটু নড়েচড়ে বসি। জানতে চাই লোডশেডিং না হলে তারা ঐ সময় কি করে? অভিভাবক জবাব দেয় তখন ইন্ডিয়ান সিরিয়াল দেখে। অলৌকিক, শুধু ভয়, একা ইত্যাদি কি সব সিরিয়াল। ঐগুলিতে নাকি অনেক ভয়ের দৃশ্য আছে। ওরা অসুস্হ হলে যা করে- যেমন ঘনঘন শ্বাস নেয়া, দাতমুখ খিটে আসা, অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়া, কোমড় মোচড়ামুচড়ি এরকম সিন সিরয়ালের পাত্রপাত্রীদের মধ্যেও নাকি কোন কোন অভিনয় দৃশ্যে দেখা যায়। সাতজনের সবাই ই ভয়ের দৃশ্যগুলিতে আতংকিত বোধ করে। কিন্ত পরিহাস হলো সে ভয় পেতে তারা আবার ভালোও বাসে।

প্রশ্নের জবাবে তিনজন জানিয়েছে তাদের ক্লাশে আরো কয়েকজনের এমন হচ্ছে। সেই ক্লাশমেটরাও আবার নিয়মিত হরর সিরিয়াল দেখে। অনেকটা গনহিষ্টেরিয়ার দুষ্টচক্রের মত ব্যাপার।



এটা কোন systematic রিসার্চ না, sample ও অল্প কয়েকজন। তবুও আমার ভেতর থেকেই আমি অন্ততঃ অনুভব করি- এদের অধিকাংশই অথবা প্রত্যেকেই ইন্ডিয়ান সিরিয়ালের ভিক্টিম। এবং ঘরের ভিতর ডিশ আর টিভি পুষলে এমনটা বাড়তেই থাকবে। ডাক্তার বৈদ্য দিয়ে কিছুতেই কিছু হবেনা। প্লিজ আপনার সন্তানদেরকে রক্ষা করুন।

সেই সাতজনের অতিরিক্ত আরেকজন রীতিমত রোগী হয়েই চেম্বারে এসেছিল। তার অন্যান্য সমস্যার সাথে ভীতিপ্রদ একটা ব্যাপার হলো চোখ দিয়ে রক্ত বেরোয় সিরিয়ালের এমন একটা চরিত্র তাকে আমগাছের উপরে গিয়ে বসে থাকতে বলে। সে চাক্ষুষ ভয়ংকর লোকটাকে দেখে ও তার কথা শুনতে পায়। কোন একটা চরিত্রের অনুকরনে সে স্কুলের সবাইকে খামচে ধরতে যায়। রীতিমত সাইকোটিক ব্যাপার। শুক্রবারে আমার নিকটবর্তী চেম্বারে সাইকিয়াট্রিষ্ট সহকারী অধ্যাপক Avra Das Bhowmik দার কাছে রেফার করে দিয়েছি। ক্লাশ সিক্সে পড়ুয়া এই মেয়েটির সাথে আমার কথোপকথনের একটা ছোট ভিডিও মোবাইলে সেভ করা আছে । আপনারা আপত্তি না করলে ভিডিওটি share করতে পারি।

‘ফেসবুক কর্ণার এ প্রকাশিত লেখা প্রয়োজন২৪ এর নিজস্ব প্রতিবেদন নয়, ফেসবুক ব্যাবহার কারীদের মতামত।’

খবরটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতেপ্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

Share Button