,

বে টার্মিনাল নির্মাণ : নামেই বড় প্রকল্প, অগ্রগতি শূন্য

ফাইল ছবিফাইল ছবি

নামেই বড় প্রকল্প, বাস্তব অগ্রগতিতে জিরো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বে টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। ছয় মাস আগে বন্দরের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা জরিপের কথা বলা হলেও এখনো তা শুরু করা যায়নি। এমনকি শুরু করতে সময় লাগতে পারে আরো দুই মাস। শুধু সম্ভাব্যতা যাচাই নয়, ভূমি অধিগ্রহণের পূর্ণ রেকর্ড জমা দেয়ার জন্য পাঁচ মাস আগে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও তা দিতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে এখনো পাওয়া যায়নি পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্রও। ফলে কাগজে-কলমে মেগা প্রকল্পের তকমা লাগা বে টার্মিনাল নির্মাণের অগ্রগতির খাতায় শূন্য। খবর সুপ্রভাত বাংলাদেশের।
যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান কাজ ভূমি। হালিশহর আনন্দর বাজার থেকে দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট পর্যন্ত সাগরের ভেতরের জেগে উঠা ভূমিতে নির্মাণ বে টার্মিনাল স্থাপন করতে যাওয়া ভূমির অধিগ্রহণ কার্যক্রমই এখনো শেষ হয়নি। আর ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া সম্ভাব্যতা জরিপের কাজও শুরু করা যাবে না। আর সম্ভাব্যতা জরিপ করা না গেলে বে টার্মিনাল স্থাপনের কোনো ডিজাইন কিংবা কর্ম পরিকল্পনাও করা যাবে না। তাই এই প্রকল্পের মূল বিষয় ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলমের কাছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিগগিরই এই কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বরের পর সম্ভাব্যতা জরিপের কাজ শুরু করা হবে।’
ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ে এর আগে গত মার্চের শেষ সপ্তাহে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কিছু জিজ্ঞাসা চাওয়া হয়েছে। এসব পাওয়া গেলে তা বরাদ্দ দেয়ার কাজটি চূড়ান্ত হবে।’ গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখনো বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে চাওয়া বিষয়গুলো জমা দিতে পারেনি।’
সেই জিজ্ঞাসায় কি ছিল জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের যেসব জায়গা প্রয়োজন সেসব জায়গার বিএস, আরএস নম্বর সিটসহ জমা দিতে হয়। অর্থাৎ কোনো সংস্থার যদি ভূমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন হয় তাহলে সেই ভূমির সকল ফাইল ওয়ার্ক করে জমা দিতে হয়। সেই ফাইলের ভিত্তিতে আমরা অধিগ্রহণ বরাদ্দ দিয়ে থাকি। এখন বন্দর কর্তৃপক্ষ তা জমা দিলেই বরাদ্দ দিতে আর দেরি হবে না।’


শুধু ভূমি অধিগ্রহণই নয়, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অবস্থানগত ছাড়পত্র পেতে প্রায় ১২টি সংস্থার ছাড়পত্র চাওয়া হয়েছে। এসব ছাড়পত্র নেয়ার জন্য একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠান এসব সংস্থা = থেকে ছাড়পত্র নেয়ার কাজ করছে বলে বন্দর সূত্রে জানা যায়।
এদিকে জেলা প্রশাসন থেকে ভূমি বরাদ্দ, কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বে টার্মিনালের কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেন, ‘একটি বন্দর গড়ে তোলা এতো সহজ নয়। অনেক সময়ের প্রয়োজন। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের রিপোর্ট ছাড়া ডিজাইন করা যাবে না। তবে ভূমি অধিগ্রহণ পাওয়ার পর আমরা বাল্ক টার্মিনালের কাজ শুরু করতে পারি। আর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সময় লাগবে ৯ মাস।’
সেপ্টেম্বরের পর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হলে তা শেষ হতে জুন মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। আর ডিজাইন করতে চলে যাবে ২০১৭ সাল। এমন প্রশ্ন করা হলে জাফর আলম বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বন্দর গড়ে তুলতে সময় লাগবে। এজন্যই আমরা বিভিন্ন জায়গায় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ করছি। চলছে কর্ণফুলী টার্মিনাল ও লালদিয়া টার্মিনাল স্থাপনের কাজ।
কিন্তু এই প্রকল্পটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বন্দরের সর্বশেষ গত ৭ মে তারিখের উপদেষ্টা কমিটির সভায় চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যরা অনেক কথা বলেছেন। সবার একই সুর ছিল যতো দ্রুত সম্ভব এই টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করা যায়। সেই সভায় নৌ মন্ত্রী শাজাহান খান এই প্রকল্পটি ফার্স্ট ট্র্যাকের কাজ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, হালিশহর আনন্দবাজার থেকে দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট পর্যন্ত সাগরের ভেতরের প্রায় ২৩০০ একর জায়গায় বে টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। সাগর থেকে জেগে উঠা এই ভূমিতে গভীর সমুদ্রে যে ড্রাফটের (গভীরতা) জাহাজ ভিড়ে হালিশহর আনন্দবাজার এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরের অংশে সাগর থেকে জেগে উঠা ভূমিতে সেই ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। এতে জোয়ার-ভাটা, দিন-রাত, বাঁকা চ্যানেল কিংবা ড্রাফটের বিবেচনা কর্ণফুলী নদীর জেটিতে ভিড়লেও বে-টার্মিনালের ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা নেই। বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর জেটিতে পৌঁছাতে একটি জাহাজকে ১৫ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। কিন্তু বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে তা শূন্য কিলোমিটারের মধ্যেই বার্থিং করতে পারবে। বে টার্মিনাল নির্মাণ হলে যে কোনো দৈর্ঘ্য ও যে কোনো ড্রাফটের জাহাজ এখানে ভিড়তে পারবে।

বিপরীতে বর্তমান চ্যানেলে মাত্র ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ কর্ণফুলীতে প্রবেশ করতে পারে। সেইক্ষেত্রেও জাহাজকে দুটি বাঁক অতিক্রম করতে হয় এবং দিনের মাত্র চার ঘণ্টা সময় পাওয়া যায়। আর রাতে বন্দর চ্যানেলে কোনো জাহাজ চালানো যায় না। কিন’ বে টার্মিনালে ২৪ ঘন্টা জাহাজ পরিচালনা করা যাবে। বিদ্যমান পোর্ট জেটিতে একসাথে ১৬টি জাহাজ বার্থিং করা গেলেও বে-টার্মিনালে গড়ে প্রায় ৫০টি জাহাজ একইসাথে বার্থিং করা যাবে। বন্দরের জেটির দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটার হলেও বে টার্মিনালের দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এই বে টার্মিনাল চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্রবন্দরের অভাব ঘোচাবে বলে বন্দর সংশ্লিষ্টদের ধারণা। (সুপ্রভাত বাংলাদেশ)

পোস্টটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে প্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

Share Button