,

বিসিএস আর মাত্র কয়েক দিন ! নিয়ে রাখুন শেষ সময়ের প্রস্তুতি

bcs preparation বিসিএস

৩৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি। হাতে সময় খুবই কম। এই সময়ের মধ্যে টেকনিক অনুযায়ি পড়লে ভালো ফলাফল আশা করা যায়। পরামর্শ দিয়েছেন ৩০তম বিসিএসে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী সৌভাগ্যবান যোদ্ধা।

সুশান্ত পাল >>

আমি লেখাটি যাঁদের ‘প্রস্তুতি নেই’, ‘মোটামুটি’ ও ‘ভালো না’—এই তিন ধরনের পরীক্ষার্থীর জন্য লিখেছি। বাকিরা এড়িয়ে যেতে পারেন। এই এক সপ্তাহের ঘুমকে যদি কিছুটা ‘গুডবাই’ বলতে পারেন, তবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করে যেতে পারবেন। যে চাকরি পেয়ে অন্তত ৩০ বছর আরাম করবেন, সেটার জন্য ছয় রাতের ঘুম হারাম করতে পারবেন না! আপনার তো স্রেফ পাস করে একটা ‘ইয়েস কার্ড’ পেলেই চলে।

১.  প্রশ্ন ব্যাংক থেকে আগের বছরের বিসিএসের প্রশ্নোত্তরগুলো আরেকবার দেখে নিন।

২.  প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সামনে রেখে কিছু সাধারণ জ্ঞানের ম্যাগাজিন বিশেষ সংখ্যা বের করেছে। পড়ে ফেলুন।

৩.  যেকোনো ভালো একটা ডাইজেস্ট থেকে প্রশ্নোত্তরগুলোয় চোখ বুলিয়ে নিন।

৪.  জব সলিউশন আগে পড়া থাকলে যতবার সম্ভব, ততবার দ্রুত রিভিশন দিন।

৫.  যেসব প্রশ্নের উত্তর জানা নেই, সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। খুঁজে না পেলে খোঁজাখুঁজি করে সময় নষ্ট করবেন না। সব প্রশ্ন পারার কী দরকার? একটা কঠিন প্রশ্নেও যে নম্বর, সহজ প্রশ্নেও সেই একই নম্বর।

৬.  এ সময়ে গাইড বইয়ের প্রশ্নোত্তর উল্টে-পাল্টে দেখতে পারেন, কিন্তু রেফারেন্স বই পড়বেন না।

৭.  সম্ভব হলে বাইরে যাওয়া বন্ধ করে বাসায় সময় দিন। এ সময়ে পেপার পড়ে, খবর শুনে কোনো লাভ নেই।

৮. আগে যা যা পড়েছেন, সেগুলো আরেকবার দেখে নিন। শেষ মুহূর্তে পড়া জিনিস বেশি মনে থাকে।

৯.  কে কী পারেন, আপনি কী পারেন না—এসব চিন্তা বাদ দিয়ে আপনি কী পারেন, সেটা নিয়ে ভাবুন। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রায়ই ‘অতি পণ্ডিত’ লোকজনও ফেল করে!

১০.  মডেল টেস্টের দু-একটা গাইড থেকে দ্রুত যত সম্ভব, তত টেস্ট দিন। অন্য কাজ বাদ দিয়ে টার্গেট নিয়ে এ কাজটি করুন।

১১.  আগের পাঁচ দিন যা যা দাগিয়ে পড়েছেন, সেগুলো মন দিয়ে দ্রুত রিভিশন দিন।


১২.  কিছু কঠিন প্রশ্ন থাকে, যেগুলো বারবার পড়লেও মনে থাকে না৷ সেগুলো মনে রাখার চেষ্টা বাদ দিন। কারণ, এ ধরনের একটি প্রশ্ন আরও কয়েকটি সহজ প্রশ্নকে মাথা থেকে বের করে দেয়।

মনে রাখবেন, সব প্রশ্নের উত্তর করতে যাবেন না ভুলেও, কিছু কিছু কঠিন আর বিভ্রান্তিকর বা গোলমেলে প্রশ্ন ছেড়ে দেওয়ার উদারতা দেখান। তবে মাথায় রাখুন, ১২টি প্রশ্ন ছেড়ে শূন্য পাওয়ার চেয়ে ছয়টি সঠিক করে তিন পাওয়া অনেক ভালো। এ ধরনের পরীক্ষাগুলোয় ভালো করার ক্ষেত্রে প্রস্তুতির চেয়ে আত্মবিশ্বাস বেশি কাজে লাগে। প্রশ্নে দু-একটা ছোটখাটো ভুল থাকতেই পারে। এটা নিয়ে মাথা খারাপ করার কিছু নেই।

আবেগ কমান, সাধারণ জ্ঞান পড়া কমান। বিসিএস সাধারণ জ্ঞানে পাণ্ডিত্যের খেলা নয়।

আগে কী পড়েছেন, কিংবা পড়েননি, সেটা ভুলে যান। বেশি পড়লেই যেমন প্রিলি পাস করা যাবেই, এমনকিছু নেই; তেমনি কম পড়লেই যে প্রিলি ফেল করবেনই, তেমনকিছু নেই।

গুনে গুনে প্রতিদিন অন্তত ১৬ ঘণ্টা ঠিকভাবে পড়াশোনা করবেন, এর জন্য মানসিক প্রস্তুতি রাখুন। এটা করতে পারলে আগে কোনকিছু না পড়লেও প্রিলি পাস করে যাবেন।

প্রতিদিন অন্তত ৫ সেট মডেল টেস্ট দেবেন।

ভাল ১টা প্রিলি ডাইজেস্ট আর বিভিন্ন প্রিলি স্পেশাল সংখ্যা সলভ করুন। প্রিলির প্রশ্নব্যাংক আর ২টা জব সল্যুশন রিভিশন দিন।

অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হবেন না। এই কয় দিন মোবাইল ফোন, টিভি, ফেসবুক, ইমো, ভাইবার, হোয়াটসআপ থেকে যতটুকু সম্ভব দূরে থাকলে আপনার জীবনযৌবন বৃথা হয়ে যাবে না।

কিছু কিছু গাধামি থেকে সরে আসুন। সংবিধান, রাজধানী ও মুদ্রা, শাখানদী ও উপনদী, প্রকৃতি ও প্রত্যয় সহ কিছু ঝামেলামার্কা টপিক আছে যেগুলি মনে রাখতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, অথচ মার্কস পাওয়া যায় ১-২। কী দরকার? সময়টা অন্য দিকে দিন, বেশি মার্কস আসবে।

সকল ধরণের রেফারেন্স বই থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন। অতো সময় নেই।

বেশি বেশি প্রশ্ন পড়ুন, আলোচনা অংশটা কম পড়বেন।

এই কয়দিনে পেপার পড়ার আর খবর শোনার কোন দরকার নাই।

মানসিক দক্ষতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন এই দুইটি বিষয়ের কনফিউজিং প্রশ্নের উত্তর করবেন না। কমনসেন্স থেকে অনেক উত্তর পেয়ে যাবেন।

যা কিছু বারবার পড়লেও মনে থাকে না, তা কিছু পড়ার দরকার নাই।

কে কী পড়ছে, সে খবর নেয়ার দরকার নাই। যাদের প্রস্তুতি অনেক ভাল, তাদের সাথে এই এই কয়দিনে প্রিলি নিয়ে কোন কথা বলবেন না।

বিজ্ঞানটা শুধু প্রিলির প্রশ্নব্যাংক আর জব সল্যুশন থেকে পড়ুন।

পাটিগণিত বাদে গাণিতিক যুক্তির বাকিগুলি প্র্যাকটিস করুন।

বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের জন্য শুধু সরকারী চাকরির প্রশ্নগুলি পড়ুন।

বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ আগে যা পড়েছেন, শুধু সেইটুকুই আরও একবার পড়ে নিন।

ডিসেম্বর বাদে গত ৫ মাসের সাধারণ জ্ঞানের তথ্যগুলি কোন একটি গাইড/বই থেকে এক নজর দেখে নিন।

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মাধ্যমিকের সামাজিক বিজ্ঞান বইটি থেকে দেখতে পারেন।

যে প্রশ্নগুলির উত্তর অনেকদিন ধরেই পাচ্ছেন না, সেগুলি নিয়ে ভাবা বন্ধ করে দিন।

পরীক্ষার আগের রাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে রাত নয়টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ুন। দুই ঘণ্টা মাথা ঠিক রাখার জন্য দারুণ একটা ঘুম অনেক সাহায্য করে। পরীক্ষার দিন সকালে আপনি যা যা ভালো পারেন, শুধু সেগুলোয় একটু অতিদ্রুত চোখ বুলিয়ে নিন। রাস্তায় কিছুই পড়ার প্রয়োজন নেই। টেনশন থাকবেই। পরীক্ষার আগে টেনশন করাটাও একটা সাধারণ ভদ্রতা! পরীক্ষার দিন সকালে বাসায় কিংবা রাস্তায় কিছুই পড়ার প্রয়োজন নেই। দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন। আত্মবিশ্বাস রাখুন। রাস্তায় যানজট থাকতে পারে, তাই হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে বাসা থেকে রওনা হবেন, তাড়াহুড়ো করবেন না। আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।

পোস্টটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে প্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

সুশান্ত পাল

 

 

 

লেখক : সুশান্ত পাল

৩০তম বিসিএসে প্রথম

 

Share Button