,

‘নিজামীর ফাসীতে যাদের অন্তরে কষ্টের অশ্রুনদী বইছে’

maolana-nizami-11

ওয়ারিশ আজাদ নাফি >>

রাজশাহী ভার্সিটির সাইকোলজির শিক্ষক আবদুল কাইয়ুম স্যার ক্লাসে ছাত্রদের যতটা না সাইকোলজি পড়াতেন তার চেয়ে বেশী শুনাতেন নিজের স্বপ্নের কথা
– তোমরা তরুণ। তোমরাই পারবে এ জাতিকে মুক্ত করতে। আমার স্বপ্ন একদিন স্বাধীন বাংলাদেশে আমি ছাত্রদের ক্লাস নেব। পারবে না তোমরা?
স্বপ্নবাজ শিক্ষক আবদুল কাইয়ুম স্যারকে পদ্মার পাড়ে জীবন্ত পুতে দিয়েছিল পাকিরা
.
২৮ শে মার্চ হানাদারদের হাতে শহীদ হওয়ার আগে আইনজীবী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত তার ছেলে মেয়েদের কাছে ডেকে বলেছিলেন
” আমাকে যদি ওরা মেরে ফেলে, তাহলে তোমরা আমার লাশটা বারান্দায় ফেলে রেখ যাতে বাংলার মানুষ আমার লাশ দেখে সাহস পায়্‍”
.
একদিন এই ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই পাকিস্তান পার্লামেন্টে দাড়িয়ে বজ্রকন্ঠে বলেছিলেন
” Out of six crores and ninety lakhs people inhabiting this state, 4 crores and 40 lakhs of people speak Bengali language. for that, sir, I consider that Bengali language is a lingua franca of our state ”
.
পাক হানাদারেরা বাংলার ব্রেভ হার্ট ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের হাটু গুড়িয়ে দিয়েছিল বাটালি দিয়ে, চিমটা দিয়ে উপড়ে নিয়েছিল চোখ। ১৪ ই এপ্রিলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কে হামাগুড়ি দিয়ে বাথরুমে যেতে হত
..
ট্রেনগুলোতে তখন আজকের মত ডিজেল ইঞ্জিন ন, কয়লার ইঞ্জিন ছিল। পাক হানাদারেরা চব্বিশ ঘন্টা সেই ট্রেনের কয়লার ইঞ্জিন স্টার্ট দিয়ে রাখত। যাতে বাঙ্গালীদের সরাসরি ইঞ্জিনের পাশে কোলরুমে উত্তপ্ত কয়লায় ফেলে হত্যা করা যায়। পাকিদের কাছে বাঙ্গালরা ছিল একটা বুলেটেরও অযোগ্য। পার্বতীপুরের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা শামশাদ আলীকে সেদিন পাকিরা কয়লার ইঞ্জিনের উত্তপ্ত কয়লায় ফেলে হত্যা করেছিল
.


ঢাকা মেডিকেলের কার্ডিয়াক স্পেশালিস্ট ডা. ফজলে রাব্বির প্রিয়তমা স্ত্রী ১৪ তারিখ রাতে দুস্বপ্ন
দেখে স্বামীকে জানালে ডা. ফজলে রাব্বি বলেছিলেন
” তুমি বোধহয় আমার কবর দেখেছ। ”
আলবদরেরা ডা. ফজলে রাব্বি কে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় ফজলে রাব্বি স্ত্রীকে বলেছিলেন ” টিকুর আম্মা ওরা আমাকে নিতে এসেছে। ”
১৭ ই ডিসেম্বর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে যখন ডা. ফজলে রাব্বির লাশ পাওয়া যায় তার দেহটা তখনো তাজা।
.
আগুনের পাখি সেলিনা পারভীন কে যখন আলবদরেরা ধরে নিয়ে যায় মা তখন ছেলে কে গায়ে তেল মাখিয়ে দিচ্ছেন। ঢাকার মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তিনি ছিলেন স্নেহের, আদরের, শ্রদ্ধার পারভীন আপা। ডেকে এনে নিজে রেধে ভাত খাওয়াতেন। হানাদারেরা সেলিনা পারভীন কে নিয়ে যাওয়ার আগে ছোট্ট ছেলে সুমনের মাথায় হাত বুলিয়ে মা সেলিনা পারভীন বলেছিলেন
” তুমি মামার সাথে খেয়ে নাও সুমন। মা যাব আর আসব। ”
সুমনের মা আর আসেনি ফিরে। বধ্যভূমিতে সেলিনা পারভীনের বেয়োনেটে ক্ষত বিক্ষত লাশ পাওয়া গিয়েছিল
.
হা এটারে বলে কষ্ট
হা এইডারে বলে নৃশংসতা
হা আমি খুশী নিজামীর ফাসীতে
আমার হো হো করে হাসতে মন চাইছে
.
হা আজ সেলিনা পারভীনেরা যেখানেই আছেন নিজামীর ফাসীর সংবাদে নিশ্চয়ই হো হো করে হাসছেন!

ওয়ারিশ আজাদ নাফি

ওয়ারিশ আজাদ নাফি

‘ফেসবুক কর্ণার এ প্রকাশিত লেখা প্রয়োজন২৪ এর নিজস্ব প্রতিবেদন নয়, ফেসবুক ব্যাবহার কারীদের মতামত।’

Share Button