ছেলেটি প্রায়ই হাত কেটে রক্ত দিয়ে আমাকে চিঠি লিখত

অনেক ‘প্রথম’ সঙ্গী করেই জীবন কাটাতে হয়। নিতে হয় অভিজ্ঞতা। তারকাদের জীবনেও এমন প্রথম অভিজ্ঞতা রয়েছে।

প্রথম প্রেম

আমি তখন কুমিল্লার নবাব ফয়েজুন্নেছা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ি। স্কুল শেষে কোচিংয়ে যেতাম। একই কোচিংয়ে পড়তে আসা একটা ছেলে আমাকে পছন্দ করত। ছেলেটির নাম না হয় না-ই বললাম। ও প্রায়ই হাত কেটে রক্ত দিয়ে আমাকে চিঠি লিখত। আমি চিঠিগুলো এক বান্ধবীর কাছে রাখতাম। কারণ, মা কঠিন পাহারায় রাখতেন আমাকে। তখন তো অত কিছু বুঝি না। ছেলেটিকেও আমার ভালো লাগত। এভাবে চলছিল দিনগুলো। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ঢাকায় চলে আসি। তারপর থেকেই ছেলেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। শুনেছি, ছেলেটিও নাকি আমার জন্য ওখানে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু আমার সঙ্গে একবারও দেখা হয়নি। ভর্তির এক বছর পর আমি জাহাঙ্গীরনগর ছেড়ে চলে আসি। এরপর থেকে আর কোনো খবর জানি না ওর।

প্রথম অটোগ্রাফ দেওয়া
‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ ঘোষণার মঞ্চেই প্রথম অটোগ্রাফ দিই। সুপারস্টার হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে সব ক্যামেরা আমার দিকে ঘুরে গেল। আমাকে ঘিরে অসংখ্য ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর সংবাদকর্মীদের একাধিক প্রশ্ন। উত্তর কী দেব! সবকিছুই যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। কারণ, তার পাঁচ মিনিট আগেও আমি এক সাধারণ মেয়ে ছিলাম। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না তখন। এমন সময় দেখি, সামনে সাদা কাগজ হাতে অনেকগুলো হাত। অটোগ্রাফ দিতে হবে। কীভাবে অটোগ্রাফ লিখতে হয়, তাও তো তখন জানি না। সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তে সেদিন কীভাবে যে অটোগ্রাফ দিয়েছিলাম, কিছুই মনে নেই এখন।



প্রথম বই পড়া
ছোটবেলায় রূপকথার ছোট ছোট বই পড়তাম। একটু বড় হয়ে তিন গোয়েন্দা সিরিজের বইগুলো পড়া শুরু করি। স্কুলে গিয়েও বন্ধুরা মিলে এই বই পড়তাম। বাসায় চুরি করে কতবার যে ‘তিন গোয়েন্দা’ পড়েছি! হিসাব কষে বলা যাবে না। ক্লাসের পড়া বাদ দিয়ে গল্পের বই পড়লে মা খুব বকা দিতেন। অনেক সময় বাসায় পাঠ্যবইয়ের মধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে ‘তিন গোয়েন্দা’ পড়েছি।

প্রথম শুটিং
‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতা চলাকালে ছোটখাটো শুটিংয়ে অংশ নিয়েছি। বিজয়ী হওয়ার পরপরই হুমায়ূন আহমেদের রহস্য নাটকে প্রথম অভিনয় করি। সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ। নুহাশপল্লীতে শুটিং হয়েছিল। নাটকের শুটিংয়ে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হবে। তখনো নাটকটির চিত্রনাট্য হাতে পাইনি। চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে সংলাপ এবং অভিব্যক্তি কেমন হবে—এসব নিয়ে আগে থেকেই ভয় ভয় লাগছিল। মজার ব্যাপার হলো—পরে জানতে পারি, আমার চরিত্রটি নাকি বাক্প্রতিবন্ধীর! শুধু অভিব্যক্তি দিয়ে অভিনয় করতে হবে। যদিও কাজটি কঠিন ছিল, কিন্তু চরিত্রটি বাক্প্রতিবন্ধীর বলে ভয়টা কমে গিয়েছিল।

প্রথম পারিশ্রমিক
রহস্য নাটকে অভিনয় করেই জীবনে প্রথম পারিশ্রমিক হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। কাজ করে প্রথম অর্থ উপার্জন। কী যে ভালো লাগছিল! অনেক খুশি হয়েছিলাম সেদিন | তখনই টাকাটা মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। এরপর ভাবলাম, টাকাটা দিয়ে মা-বাবাকে কিছু কিনে দেব। তখন আমরা কুমিল্লায় থাকি। একদিন ওই টাকা দিয়ে শাড়ি-পাঞ্জাবিসহ বেশ কিছু উপহার কিনি। তারপর বাসায় ছোটখাটো একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মা-বাবার হাতে সেগুলো তুলে দিয়েছিলাম।

পোস্টটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে প্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।