গাহি সৌম্য’র গান!

bd6

এই ছেলেটা কয়েকদিন ধরে খুব যন্ত্রণা দিচ্ছে। হঠাৎ হঠাৎ তাকে নিয়ে কিছু লেখার চিন্তা মাথায় আসছে। কিন্তু কেন যেন সাজিয়ে উঠতে পারছিলাম না। এক একবার এক একভাবে শুরু করতে মন চাইছিলো!

দ্বিতীয় ওয়ানডের পর লিখেছিলাম, যেদিন আপনার সুন্দর টাইমিং হয়, সেদিন আপনি বড় রান করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু টাইমিং এ কিছু গড়বড় এর পরেও উইকেটে পড়ে থেকে বলের সাথে পাল্লা দিয়েই ৮৮ রান তোলা, সেঞ্চুরির আফসোস জাগানো! এটা বড্ড কঠিন কাজ ভাই, সৌম্য আজ এটাই করে দেখিয়েছেন! আর আজ তৃতীয় ওয়ানডেতে সেই সৌম্য তো আরো নিখুঁত, আরো বিদ্ধ্বংসী, আর উম্মত্ত! মরনে মরকেলকে পর্যন্ত কি অবিশ্বাস্য অবজ্ঞায় সীমানাছাড়া করছেন, গ্যালারিতে আছড়ে ফেলছেন!

গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ছেলেটা যেন অনেকটা হুট করেই হাজির হয়েছিলো বাংলাদেশ দলে। প্রথম দেখাতেই যেটি নজর কাড়ে সেটি হচ্ছে তার উচ্চতা! ছেলেটি সেই ম্যাচে মাত্র ২০ টি রান করেছিলো, কিন্তু তার মাঝেও আলাদাভাবে নজর কেড়েছিলো তার ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার দীর্ঘকায় শরীর ও বাউন্সার বলে অনায়াসে উইকেটকিপারের মাথার উপর দিয়ে তুলে দেওয়া দুটি শট!

এমন সুনিপুণ দক্ষতায় এই শটটি তিনি খেলেন যে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তাদের ফেসবুক পেজে এই শটটিটে সৌম্যের ট্রেডমার্ক শট আখ্যা দিয়ে তাকে তুলনা দিয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির হেলিকপ্টার শটের সাথে, নাম দিয়েছে ‘পেরিস্কোপ!’

বিশ্বকাপে খুব বেশি কিছু না করলেও, তার অদ্ভুত নির্লিপ্ত ও শান্ত মুখভঙ্গি, দুর্দান্ত ফিল্ডিং ও ভয়ডরহীন ব্যাটিং দিয়ে আভাস দিয়েছেন যে তিনি থাকতেই এসেছেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে বলেছিলেন, বিশ্বকাপ দিয়ে নিজেকে চেনাতে চান। বিশ্বকাপে সেটা পুরোপুরিই না পারলেও দেশে ফিরে পাকিস্তানের বিপক্ষেই তা করে ফেলেছেন, সৌম্যকে চিনেছে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩য় ওয়ানডেতে ৬ টি ছক্কাসহ যে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তিনি হাকিয়েছিলেন তা যেন এখনো চোখে লেগে আছে। সেঞ্চুরিতে পৌছনোর সময় ব্যাকফুটে যে শটটি খেলে ছক্কা মেরেছেন, গড়পড়তা এশিয়ান ব্যাটসম্যানদের পক্ষে এমন শট খেলা বেশ দুরূহ ব্যাপার। ব্যাকফুটে এতো পাওয়ারফুল শট সত্যিই অবাক করে, এতোগুলো ছক্কা হাকানোর পরও তাকে দেখে সেদিন একটুও ক্লান্ত মনে হয়নি!

আর সৌম্য আসার পরেই যেন তামিমও নিজেকে ফিরে পেয়েছেন। অপর প্রান্তে সৌম্যের নির্ভরতাই তামিমকে ফিরিয়ে এনেছে তামিমের রূপে। দুজনে মিলে যেন হয়ে উঠছেন গরীবের ‘হেইডেন-গিলক্রিস্ট!’ নাহ, এটা আমার কথা নয়। প্রখ্যাত ইংরেজ ধারাভাষ্যকার অ্যালান উইলকিন্স ভারতের বিপক্ষে ৩য় ওয়ানডেতে সৌম্যের একটি লফটেড ড্রাইভ দেখে মুগ্ধ কন্ঠে আতহার আলী খানকে বলেছেন, ‘তুমি কি জানো এই শটটি দেখে আমার কার কথা মনে পড়েছে? এডাম গিলক্রিস্ট! হ্যা, গিলক্রিস্ট ঠিক এভাবেই তার ড্রাইভগুলো খেলতেন! সৌম্য একজন ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান!’

হ্যা, এই সৌম্য ভয়ঙ্কর, ব্যাট হাতে অশান্ত, মুখভঙ্গিতে বড্ড শান্ত, তার ব্যাটিং সুন্দর!

সমর্থকদের কাছে একটাই অনুরোধ, সৌম্যকে সৌম্যের মতো থাকতে দিন। তামিমের বেলায় যে ভুল আমরা করেছি, সৌম্যের বেলায় যেন তা না হয়। সৌম্যেরও খারাপ সময় আসবে, সেই সময় আমরা যেন তার ডানা দুটি কেটে ফেলার চেষ্টা না করি।

উড়ুক না সে আপন খেয়ালে, কখনো পেরিস্কোপ হয়ে, কখনোবা গিলক্রিস্টকে মনে করানো লফটেড ড্রাইভের বেশে! তাই, গাহি সৌম্যের গান!

source : প্রিয় ডট কম