,

ক্রিকইনফো’র রিপোর্টে মাশরাফির গল্প, বিশ্বজুড়ে আলোচনা

mashrafe- মাশরাফি

ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। নিবন্ধে মাশরাফির ছোটবেলা, ক্রিকেট আসা, জাতীয় দলে খেলা ও অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে দলকে বদলে দেয়ার গল্প উঠে এসেছে। প্রয়োজন২৪ এর পাঠকদের জন্য নিবন্ধটি অনুবাদ করেছেন মিনার সালেহীন

এক পড়ন্ত বিকেলে মাশরাফি শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দীর্ঘ এক ট্রেনিং সেশন শেষ করে বাসার ড্রেসিং রুমে আসল আর মাছ পালন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
তাকে ঘিরে রয়েছে সাংবাদিকদের একটি দল, যদের মধ্যে অনেকেই সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার যাদেরকে মাশরাফি নিজেই খবর দিয়েছেন অনেকদিন পর গল্প করার জন্য।
তার দলের অন্যরা কষ্টদায়ক ফিটনেস সেশন শেষ করে ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে ড্রেসিং রুমে চলে গেল। মাশরাফি তার ছোটবেলার স্মৃতির কথা দিয়ে শুরু করলেন সাংবাদিকদের সাথে একেকটি মাছের লেজ ধরে চিনিয়ে দিয়ে চিত্রা নদীতে নিজের হাতে মাছ ধরার ঘটনা বললেন।
নরাইল ঢাকা থেকে ২১৪ কি,মি, দক্ষিন-পশ্চিমে বাংলাদেশের অন্যান্য ছোট শহরের মত।
চিত্রা নদীকে ছাড়া নরাইলকে চিন্তাও করা যায় না। মাশরাফির বাড়ি থেকে চিত্রা নদীর দিকে সরু পথ চলে গিয়েছে। মাশরাফি তার বন্ধুদের নিয়ে চিত্রা নদীতে লাফ দিতেন। একবার বাঁধের মাঝ দিয়ে সাঁতরানোর সময় তারা আটকিয়েও গিয়েছিল।
১৯৯০ সালে ঢাকার বাইরে থেকে ক্রিকেটার বাছাই করা শুরু হয় কিন্তু নরাইল থেকে না, নরাইল ছিল বিখ্যাত শিল্পী এস,এম, সুলতানের শহর। মাশরাফি কিছুটা ক্রিকেট ও ফুটবল খেলতেন কিন্তু স্কুল থেকে ফিরে তার বাকি সময় কাটত রাতে নৌকা চালিয়ে, চিত্রাতে সাঁতার কেটে। অনূর্ধ্ব ১৭ ক্রিকেট দলে খেলার সুযোগ পাওয়ার আগে পর্যন্ত তার জীবনটা ছিল ছোট একটা গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ।

[নিচের বিজ্ঞাপনটিতে ক্লিক করুন]



“ আমি যদি জিম না করি, আমি কনফিডেন্স পায় না। সাধারনত খেলার পরের দিন সবাই বিশ্রাম নেই, কিন্তু আমার কাজ থাকে।”

মাশরাফি যখন মাছ পালন নিয়ে কথা বলছিল তখন নিচের ফ্লোরে বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন নতুন স্পন্সরশিপ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন।
গত দুই বছরে ক্যাপ্টেন হিসেবে মাশরাফির দক্ষতার জন্যই অনেকটা ভাল অবস্থানে এসেছে দল। দলের খারাপ অবস্থার মধ্যে তৃতীয় বারের মত দলের কান্ডারী হওয়ার পর মাশরাফি বলেন “আমরা এই বছর কিছুটা খারাপ খেলেছি তাই আমরা ভাল অবস্থায় আছি বলতে পারি না।” নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে সিরিজ নিয়ে নিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের আগে ভাল করে ফিরে আসার এটাই সু্যোগ।”
বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটয়াশ করে উড়িয়ে দিতে পারে কিন্তু মাশরাফি ফলাফল নিয়ে আগে কথা বলতে রাজি না, এমনকি যখন তার দল বিশ্বকাপের কোয়াটার ফাইনাল খেলার বিষয় নিয়েও।
মাশরাফি ভারতের সাথে নো-বল ও আম্পায়ারিং বিতর্ককে দোষারোপ না করে নিজেদের আরো ভাল খেলা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন।
বিশ্বকাপের পর ভারত ও পাকিস্তানের সাথে সিরিজ জয়কে বিশ্বকাপের প্রতিশোধ হিসেবে নিয়েছে দর্শকরা, কিন্তু মাশরাফি মনে করেন যদিও মানুষের ইমোশনকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না, তবুও ক্রিকেটকে ক্রিকেটের জায়গায় থাকতে দেওয়া উচিত।
একমাস পর দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ড্র করার পর মাশরাফি প্রশ্নের সম্মুখীন হন, টানা তিনটি সিরিজ হারের পর তিনি চাপ ও চ্যালেঞ্জ অনুভব করেছিলেন কিনা।
মাশরাফি হেসে বলেন, “সব চ্যালেঞ্জই আলাদা, কিন্তু আমার কাছে আমার ছেলে মেয়েকে বড় করার চেয়ে বড় কোন চ্যালেঞ্জ নাই।”
“আমি অন্য ক্যাপ্টেনদের মত নই যে কয়েক ওভার অপেক্ষা করব, যখন দেখব কোন বোলারকে দিয়ে হবে তখন তখন এক ওভার পরই তাকে পরিবর্তন করব।”
বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ভারতের সাথে ২০০৪ সালে অস্টেলিয়ার সাথে ২০০৫ সালে পাকিস্তানের সাথে এর আগে ১৯৯৯ সালে জয়ই ছিল হাতেগোনা কিছু জয়। তখন হাবিবুল বাশার, খালেদ মাসুদরা ৪০, ৫০ রান করতেন মাঝেমাঝে। তখন মিডিয়াতে অনেক সমালোচনা হয়েছিল বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়াকে নিয়ে।
ব্যক্তিগতভাবে অনেকে ভাল ইনিংস করেছেন এমন আছেন মোহাম্মদ আশরাফুল, বোলিংয়ের ঘূর্ণি নিয়ে ছিলেন মোহাম্মদ রফিক। পরবর্তীতে ২০০৭ বিশ্বকাপে জহির খানের বলে মারমুখী ব্যটিংয়ে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানরা আলোতে আসেন।তারপরও ২০১১ পর্যন্ত অনেকটা খারাপ অবস্থার মধ্যেই কাটায় দল। ২০১২,২০১৩ সালে ভাল করে কিন্তু যখন ২০১৪ সালে ২৭ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে ২২ টি পরাজয় অনেকটা হতাশা নিয়ে আসে।
পরবতীতে গত সেপ্টেম্বরে মাশরাফিকে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত অনেক সুফল বয়ে আনে।
ধারাবাহিকভাবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। বাংলাদেশ আফগানিস্থানকে হারায়, স্কটল্যান্ডকে বড় রানের টার্গেট নিয়ে জয়ী হয়, পরবর্তীতে ইংল্যান্ডকে হারায়।
মাশরাফি অনেক নতুন প্রতিভাকে তুলে এনেছেন। মাশরাফি ব্যাটসম্যানদেরকে অনেক দুরের মাইলফলক না দেখে তাদের স্ট্রাইক রেট দেখে খেলার জন্য বলেন। রুবেল হোসেনের ব্যাক্তিগত সমস্যা থেকেও উঠে আসার জন্য তাকে সাহায্য করে মাশরাফি। মাশরাফি জানে তাসকিন আহমেদকে কখন কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। তিনি সতীর্থদের সাথে চিৎকার না করে তাদের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো খুঁজে তার যথাযথ ব্যাবহার করেন।
“আমি কখনই ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডকে ভুলবো না। তার কোন রকম সাহায্য সহায়তা ছিল না যখন সে হাটু অপারেশনে ছিল মেলবোরনে। সে নিজেই হাসপাতালে গিয়েছিল অপারেশনের জন্য।”- সাবেক বাংলাদেশ কোচ শেন জারগেসন
টেস্ট অভিষেকে মাশরাফি ৩২ ওভারে ১০৬ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নেন।
“আমরা যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ সংবর্ধনা পেয়েছি দেশে ফিরে।” দুইমাস পর মাশরাফি বলেন।
“বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের সাথে ভাল না করলে আমাদের খেলাকে সবাই অধারাবাহিক বলত।” বিশ্বকাপের পর অনেকটা আক্রমণাত্তক হয়েই খেলেছিল পুরো দল। ৩২৯ রান করে বোলাররা সহজেই প্রতিরোধ করতে পেরেছিল। শেষ খেলাতে বারবার বোলার পরিবর্তনের এক রূপ দেখা যায় তার মাঝে এবং ২৫০ রানে অলআওট করে। মাশরাফি বলেন, “অন্যদের মত আমি কয়েক ওভার অপেক্ষা করি না, যাকে দিয়ে হবে না দেখি তখনই তাকে পরিবর্তন করি।”
মাশরাফি ভারতের সাথে সিরিজ অল্পের জন্য মিস করতেন। শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের পাশে রিকশা করে যাওয়ার সময় বাস তার রিকশাতে ধাক্কা দিলে হাটুতে আঘাত পান। তিনি পুলিশকে ঢেকে তাকে মাঠে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন, আর রিকশাওয়ালাকে টাকা দিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। বাস ড্রাইভারটির পিছনে না যাওয়ার জন্যও বলেন পুলিশকে। সেদিন ভারতের সাথে তার দল জিতে যায়।
“এটা আমাদের সেরা অর্জন। বিশ্বকাপে ভাল পারফরম্যান্সের পর পাকিস্তানের সাথে ও ভারতের সাথে জয় আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট।সব বিষয় বিবেচনা করে এটা আমার জন্য প্লেয়ার হিসেবে, ক্যাপ্টেন হিসেবে সেরা অর্জন।”
ভারতের বিপক্ষে প্রথম ২ ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমানের ১১ উইকেট অনেক অবদান রাখে। মাশরাফি মুস্তাফিজকে সিরিজের ১ মাস আগে দেখেন আর বুঝতে পারেন সে আক্রমনের একটি হাতিয়ার হতে পারে, তখন তিনি কোচ ও নির্বাচকদের জানায় যে মুস্তাফিজকে সারপ্রাইজ হিসেবে তার দরকার।
“আপনি মুস্তাফিজকে দেখেন সে কিভাবে নেটে বল করে, তার বলে অনেক ভয়ংকর হতে পারে যদি খেয়াল করে খেলা না হয়।”
“আপনি যখন কারও কাছে যাবেন, তার সাথে কাজ করবেন, তখন তার কনফিডেন্স সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাকে একটি সুযোগ দিয়ে দেখতে পারেন যার ফলাফল হয়তো অনিশ্চিত।”

জাহিদ রেজা বাংলাদেশ ক্রিকেটে দাড়ি বাবু নামে পরিচিত তার দাড়ির জন্য। ঢাকা ক্লাবগুলোতে অনেকদিন ধরেই তিনি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৯০ সালে জাহিদ একজন ক্লাব অফিসিয়াল ছিলেন তখন নড়াইল থেকে একটি ছেলে আসে। “এটা ছিল বয়স ভিত্তিক খুলনা ও ঢাকা মেট্রোপলিটনের মধ্যে খেলা ধান্মন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।” আগের কথা স্মরন করেন জাহিদ। “ সাইদ রাসেলের সাথে সে ছিল খুলনার সেরা খেলোয়ার, কিন্তু বয়সের কারনে তারা অযোগ্য হল।পরে তাদের একজন কান্না করছিল দেখে আমি তাদেরকে মেডিকেল কলেজে পাঠায় বয়স পরীক্ষার জন্য ও সংগঠকদের তাদেরকে খেলতে দেয়ার জন্য বলি। পরেরদিন তারা খেলে ও খুলনা সহজেই ম্যাচটি জিতে যায়।”
জাহিদ তখনই মাশরাফির বলের পেস দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। জাহিদ মাশরাফিকে তার সাথে নেন ও আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবে তার নাম লেখান ও ঢাকার ১ম বিভাগে খেলার সুযোগ করে দেন।
“তখন ভারত সফরের জন্য একজন নতুন বোলারের খোঁজ করছিল নির্বাচকরা, তখনই (২০০১ সালে) নির্বাচকরা তার বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়ে দলে যুক্ত করে। তখন মাশরাফি ছিল দলের জন্য অকল্পনীয় পেস বোলার।”
মাত্র আট মাস অনূর্ধ্ব ১৭ দলে খেলে মাশরাফি বাংলাদেশ এ দলের হয়ে ভারতে খেলতে যান এবং জিম্বাবুয়ের সাথে সিরিজের মাঝে টেস্ট খেলার জন্য দলে ঢাক পান।
বাদশাহ দেশের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম আলোতে নির্বাচিত হন। তখন থেকেই নির্বাচকরা বাদশাহর উত্তরাধিকার খুজতে থাকেন। হাসিবুর রহমান, বিকাশ রঞ্জন দাশ বাংলাদেশের প্রথম টেস্টে খেলেন। বিকাশ বাহাতি পেস বোলার ছিলেন। পরে আরেকজন বাহাতি পেস বোলার মঞ্জুরুল ইসলাম দলে যুক্ত হন। জিম্বাবুয়ে সিরিজে তার বোলিং আকর্ষণীয় ছিল। মোহাম্মদ শরীফ তরুন পেস বোলার হিসেবে দলে আসে।
টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়াটা ছিল বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিষেক টেস্টে মোহাম্মদ আশরাফুলের ভাল ইনিংস করেন। মাশরাফিও তেমনি বল হাতে একই কাজটি করেন।
হালকা-পাতলা তরুন হলেও মাশরাফির বোলিং স্টাইল জিম্বাবুয়ে শিবিরে অনেকটা ভয়ের কারন হিসেবে দেখা দেয়। তাদের ভয় ও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দর্শকদের উল্লাশ বাস্তবে রূপ নেয় যখন মাশরাফি গ্র্যান্ড ফ্লাওয়ার ও স্টুয়ারট কারলিসের উইকেট নেয়।
অভিষেকের ২ মাসের মাথায় মাশরাফি তার কাঁধ ও পিঠের ইনজুরিতে পড়েন। তার ৩ মাস পর হাটুর ইনজুরিতে পড়েন মাশরাফি। পরে ইনজুরিই তার রুটিন কাজ হয়ে কাজ। ২০০৩ বিশ্বকাপে মাত্র ২ ম্যাচ খেলে ইনজুরিতে পড়েন ও পরবর্তী ১২ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠের বাইরেই থাকতে হয় তাকে।
মাশরাফির সেরা পারফরম্যান্স গুলোর একটি হল ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের সাথে ম্যাচ। তার আগের দিনটি ছিল শোকের। তার খুলনা ও দলের বন্ধু মঞ্জুরুল ইসলাম রানার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে মাশরাফি শোকাহত হয়ে পড়েন। কিন্তু তার তাকে খেলার মাঠে আরো শক্ত করে তোলে এবং তার ৪ উইকেট ই ভারতের বিপক্ষে স্মরণীয় জয় এনে দেয়। পরে তিনি বলেন, সে ম্যাচটি তিনি রানার জন্যই খেলেছিলেন।
খেলা শুরু করার পর থেকে মাশরাফি ১১০ টি ম্যাচ মিস করেন। মাশরাফির ফিটনেস নিয়ে যখন পুরো বাংলাদেশ দল চিন্তিত এবং কোচ জিমি সিডন্স বলেন, “সে সম্পূর্ণই আনফিট,তাকে নিয়ে আমি এখন ভাবছি না।” সে অবস্থায় মাশরাফির সাথে জিমি সিডন্সের দূরত্বের সৃষ্টি হয়, “ফিজিও বলবে ফিটনেস নিয়ে, কোচ বলবে পারফরম্যান্স নিয়ে।” মাশরাফি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন।
২০১১ সালের ১৯শে জানুয়ারি প্রধান নির্বাচক মাশরাফিকে ছাড়াই দল ঘোষণা করেন এবং মাশরাফি যথেষ্ট ফিট না বলেন। “আজকে আমার খুব কষ্টদায়ক একটা দিন।” সেদিন মাশরাফি সাংবাদিকদের বলেন।“আমি এমন খবরের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমি শতভাগ কনফিডেন্স ছিলাম, কিন্তু এখন আমার কিছু করার নেই, তাদের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানায় ও খেলোয়ারদের জন্য শুভকামনা।”
৩৬ ম্যাচে ৭৮ উইকেট নেন মাশরাফি।অনেক পেসার বাংলাদেশ ক্রিকেটে এসেছে ছোট শহর থেকে মাশরাফির মত। রুবেল এসেছেন বাগেরহাট থেকে, রবিউল ইসলাম, আল-আমিন হোসাইন মাশরাফিকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছে দূরবর্তী জায়গা থেকেও জাতীয় দলে খেলার জন্য।
রবিউল বাংলাদেশী প্রথম পেস বোলার যে টেস্ট ম্যাচে ম্যান- অব দা ম্যাচ হয়েছে। রবিউল এসেছেন সাতক্ষীরা থেকে। “মাশরাফি ভাই আমাকে শিখিয়েছে ফিটনেস, বোলিং সম্পর্কে ও কিভাবে ইনজুরি থেকে উঠে আসতে হয়।”
রবিউল বলেন, “আমি মঝেমাঝে ভাবি আমি কতটা লাজুক ছিলাম যখন তার সাথে প্রথম দেখা করি, এমনকি আমি কথাও বলতে পারিনি, এখন আমি অনেক ভাগ্যবান মনে ক্রছি নিজেকে।”
জারগুসেন স্মরণ করিয়ে দেয় মাশরাফি কিভাবে ২০১২ সালে দলকে খারাপ অবস্থা থেকে তুলে আনেন, যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সিরিজ পরাজয়ের পর মাশরাফি যখন ওয়ানডেতে দলে যোগ দেন তখন ড্রেসিং রুমের চিত্রটাই পালটে দেন। “সিরিজের অবস্থা পরিবর্তন করে দেয়ার আগের দিন আমারা ছিলাম তার গ্রামের বাড়িতে এবং দেখি সে কত জনপ্রিয়। দলের সাথে তার আন্তরিকতাটায় সাফল্যের পিছনে বড় কারন।”
১৫ বছর হয়ছে মাশরাফি বাংলাদেশ দলে খেলছে, অথচ যেন সেই ১৭ বছরের তরুনের মতই তার খেলার ধরন যখন ২০০১ সালে সবার চোখ ধাঁদিয়ে দিয়েছিল।
“আমি খেলা শুরু করেছিলাম মজা হিসেবে, আমার এখনও মনে পড়ে, যখন আমি খুশী হতাম সবাই আমার খেলা টিভিতে দেখছে জেনে। খেলতাম প্রতিটা ম্যাচই আমার শেষ ম্যাচ হিসেবে। ১৫ বছর হয়েছে আমি তেমন বড় কিছু করতে পারিনি, কিন্তু আমার আমার সবটুকূই দিয়েছি ইনজুরি সত্ত্বেও।
তার পরিচিত সবাই বলেছেন গত দুই দশকে মাশরাফি কোন পরিবর্তন হয়নি। আগে নড়াইল থাকতে যেমন ছিলেন, এখনও তেমনটাই। ছোটবেলা থেকেই মাশরাফি ডানপিঠে। নারকেল গাছে উঠা, নৌকা চালানো, চিত্রা নদীর ব্রিজের উপর মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুই হাত ছড়িয়ে দেয়া সব তার ডানপিঠে স্বভাবের অংশ।
ক্রিকেটের প্রতি তার আচরন যখন খেলা শুরু করেছিল তেমনটাই আছে, এখনও একটি বাউন্ডারি বাচানোর জন্য মাথা বাড়িয়ে ড্রাইভ দেন, আগের মতই দৌড়ান ইনজুরি সত্ত্বেও বাংলাদেশ দলের খারাপ সময়গুলোতেও যেমন সাথে ছিলেন তেমন সাফল্যের দিনগুলোতেও আছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেক সুপারস্টার দেখেছে কিন্তু তার মত একাধারে ভাল খেলোয়ার, সফল দলনেতা ও অনুপ্রেরণা খুব কমই দেখেছে।

পোস্টটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে প্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

Share Button