,

আশুরায় রোজার ফযিলত : গুনাহ ক্ষমার এক অপূর্ব সময়!

Al-QuranKu

::আনিস রহমান::

আশুরায় রোজার ফযিলত – গুনাহ ক্ষমার এক অপূর্ব সময়!

মুহাররম ও আশুরা

কুরআন মজীদে ও হাদীস শরীফে এ মাস সম্পর্কে যা এসেছে তা হল, এটা অত্যন্ত  ফযীলতপূর্ণ মাস। কুরআনের ভাষায় এটি ‘আরবাআতুন হুরুম’-অর্থাৎ চার সম্মানিত মাসের অন্যতম।

এ মাসে রোযা রাখার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

১. হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রমযানের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা হল সর্বশ্রেষ্ঠ।’

أفضل الصيام بعد رمضان شهر الله المحرم

-সহীহ মুসলিম ২/৩৬৮; জামে তিরমিযী ১/১৫৭

এর মধ্যে আশুরার রোযার ফযীলত আরও বেশি।

২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোযা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’

ما رأيت النبي صلى الله عليه وسلم  يتحرى صيام يوم فضله على غيره إلا هذا اليوم يوم عاشوراء وهذا الشهر يعني رمضان

-সহীহ বুখারী ১/২১৮

৩. অন্য হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোযার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’

صيام يوم عاشوراء أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله

 -সহীহ মুসলিম ১/৩৬৭; জামে তিরমিযী ১/১৫৮

৪. ইবনে আববাস রাদিআললাহু আনহু বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি যিলহজ্জের শেষ দিন এবং মুহাররমের প্রথম দিন রোযা রাখল সে যেন বিগত বছরকে রোজার মাধ্যমে শেষ করল। অর্থাৎ সে যেন বিগত পুরো বছর রোযা রাখল এবং আগামি বছরকেও রোযা দিয়ে শুরু করল।

আল্লাহ তাআ’লা তার ঐ রোজাকে তার পঞ্চাশ বছরের গুনাহের কাফফারা করে দিবেন।( গনিয়াতুত তালিবিন, পৃষ্ঠা : ৪২৮ )

[নিচের বিজ্ঞাপনটিতে ক্লিক করুন]



১০ই মহরম বা আশুরা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

১০ই মহরম বা আশুরা গুরুত্বপূর্ণ কারন এই দিনে পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটে গিয়েছে বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ।

*  আদম (আঃ)কে সৃষ্টি করা হয়েছে ১০ই মহররম।
*  ১০ই মহররম আদম (আঃ) কে বেহেশতে প্রবেশ করানো হয়েছে ।
*  আশুরাতেই আদম (আ.) কে বেহেশত থেকে দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছে।
*  আদম (আ.) এ তওবা কবুল করা হয় এই আশুরাতেই।
*  মা হাওয়া (আ.) এর সাথে আদম (আ.) পুনরায় সাক্ষাত হয় এই ১০ই মহররম।
*  আসমান-জমিন সৃষ্টি করা হয়েছে মহররম মাসেই।
*  চাঁদ-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, পাহাড়-পর্বত, সাগর-মাহাসাগর সৃষ্টি করা হয় এই মহররম মাসেই।
*  আশুরাতেই জন্ম গ্রহণ করেন ইব্রাহীম (আ.)।
*  আশুরাতেই হযরত মূসা (আ.) এবং আল্লাহপাকের মধ্যে কথোপকথোন হয়েছিল।
*  হযরত মূসা (আ.) এর উপর তৌরাত কিতাব নাজিল হয়েছিল এই আশুরাতেই।
*  আশুরাতেই মূসা (আ.) তার সাথীদের নিয়ে নীল নদ পার হন এবং ফেরাউন বাহিনী পানিতে ডুবে মরে।
*  হযরত আইয়ুব (আ.) দীর্ঘ ১৮ বছর কঠিন রোগ ভোগের পর সুস্থ হয়ে উঠেন এই আশুরাতেই।
*  হযরত সোলায়মান (আ.) পুনঃ বাদশাহী লাভ করেন আশুরাতেই।
*  আশুরাতেই দাউদ (আ.) এর তওবা কবুল করা হয়।
*  হযরত ইউছুফ (আ.) তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আ.) এর সাথে মিলিত হন এই আশুরাতেই।
*  হযরত ইসা (আ.) জন্ম গ্রহণ করেন আশুরাতেই।
*  হযরত ইসা (আ.) কে আল্লাহপাক সশরীরে আসমানে তুলে নেন এই আশুরাতেই।
*  আশুরাতেই আল্লাহপাক হযরত ইদ্রিস (আ.) কে জীবিত করেন এবং তাকে জান্নাতে উঠিয়ে নেয়া হয়।
*  হযরত নূহ (আ.) এর জাহাজ চল্লিশ দিন পর পাহাড়ের কিনারে ভিড়ে আশুরাতেই।
*  আশুরাতেই হযরত নূহ (আ.) জমিনে অবতরণ করেন।
*  আশুরাতেই উম্মতে মুহাম্মদীর গুনাহ মাফ হয়।
*  জিব্রাইল (আ.) আশুরাতেই দুনিয়াতে আগমন করেন।
*  আল্লাহপাক দুনিয়াতে প্রথমবার রহমত নাজিল করেন ও রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করেন আশুরাতেই।
*  হযরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে বের হয়ে আসেন আশুরাতেই।

আশুরার দিনের করনীয় :

(১) রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশুরার দিনে সওম পালন করতে বলেছেন। তাই আশুরার দিনকে বাদ দিয়ে সওম পালন করলে তা আশুরার সওম হবে না।

(২) আশুরার সওম পালনের ক্ষেত্রে ইহুদীদের বিরোধীতা করতে হবে। তাই ইহুদীদের মত দশম তারিখে একটি মাত্র সওম পালনকরা যাবে না।

(৩) আশুরার একদিন পূর্বে সওম পালন করতে হবে।

(৪) যদি আশুরার পূর্বের দিন সওম পালন করা কোন কারণে সম্ভব না হয় তাহলে আশুরা ও তার পরের দিন সওম পালন করতে হবে। কিভাবে পালন করবেন আশুরার সওম আশুরার সওম পালন সম্পর্কিত হাদীসসমূহ একত্র করলে আশুরার সওম পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে কয়েকটি সিদ্ধান্তে আসা যায়ঃ

(ক) মুহাররম মাসের নবম ও দশম তারিখে সওম পালন করা। এ পদ্ধতি অতি উত্তম। কারণ রসূলে কারীম (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এভাবেই আশুরার সওম পালনের সংকল্প করেছিলেন। যেমন ইতিপূর্বে আলোচিত ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীস এর প্রমাণ বহন করে।

(খ) মুহাররম মাসের দশম ও একাদশ দিবসে সওম পালন করা। এ পদ্ধতিও হাদীস দ্বারা সমর্থিত।

(গ) শুধু মুহাররম মাসের দশম তারিখে সওম পালন করা। এ পদ্ধতি মাকরূহ। কারণ এটা ইহুদীদের আমলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। (ইকতেজাউ সিরাতিল মুস্তাকীম: ইমাম তাইমিয়া) ও (রদ্দুল মুহতার : ইবনে আবেদীন) কোন কোন আলেমের মতে আশুরা উপলক্ষে নবম, দশম ও একাদশ তারিখে মোট তিনটি সওম পালন করা ভাল। এতে আশুরার ফজীলত লাভ করার ক্ষেত্রে কোন সন্দেহ থাকে না।

তবে সর্বাবস্থায় এ রকম আমল করা ঠিক হবে না। এভাবে আমল তখনই করা যেতে পারে যখন আশুরার তারিখনিয়ে সন্দেহ দেখা যায়যেমন মুহাম্মাবিন সীরিন (রহঃ)থেকে বর্ণিত আছে যে, একবারমুহাররমের তারিখনিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিলে তিনি উপরোক্তনিয়মে তিনটি সওম পালন করেন।(ফাতহুল বারী : ইবনে হাজার) ও (যাদুল মাআ’দ : ইবনুল কায়্যিম)

খবরটি ফেসবুক এ শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন। আপনার প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে প্রয়োজন২৪.কম পেইজ এ লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

Share Button